Saturday, September 7, 2019

ইমাম গাজ্জালী - ভাড়ায় খাটা ট্র্যাজিক বুদ্ধিজীবি


 ঢাকার শহরতলীতে যেসব বাড়ীতে আমার শৈশব কেটেছে সেগুলোকে এখন বোধহয় বস্তি বলা চলে । ফ্লোরে বিছানা করে সারিবদ্ধভাবে শুয়ে দুই রুমে আট-দশজন মানুষ , ওকেশনাল গ্রাম থেকে আসা আত্নীয়সহ । বিছানার পাশেই হাঁড়িপাতিল বাসনকোশন বইপত্র আর একমাত্র ফার্নিচার আলনা । নাহ, সেগুলা নিয়া দুঃখ করতেছি না । ড্যাড ওয়াজ ডুয়িং হিজ বেস্ট । ঘটনা হইলো ঐসব বাড়ীতে যখন আপনি থাকবেন তখন আপনার প্রতিবেশীও এরকমই হয়তো এক রুমে তিন চারটা বাচ্চাসহ দম্পতি হয়তো কোনরকমে মাথাগুঁজে আছে । এইসব পাশাপাশি রুমের বয়স্কদের মধ্যে মাঝেমাঝে ঝগড়া লেগে যেতো ধুন্দুমার । হয়তো শিশুদেরই কোন সংঘর্ষের সূত্র ধরে অথবা বড়দের কোন কিছু নিয়ে । বড়দের ভিতর কি নিয়ে লাগতো সেবিষয়ে বিন্দুমাত্র স্মৃতি নাই । অযথা কথা বানিয়ে লাভ কি । স্মৃতিতে আছে কেবল এইসব ঝগড়ার বাইরের পর্ব শেষে ঘরে ফিরে আমার বাপের দেয়া কিছু উপদেশ । কোন এক উদ্ভট কারণে এসমস্ত ঝগড়ায় তিনি ঝগড়ার মাঝখানে হুট করে ঘরে চলে আসতেন, কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে গিয়ে ইংরেজিতে কিছু বলে আসতেন । আর আবার ঘরে ফিরে আমাদের উপদেশ দিতেন, ইংরেজি হইলো আসল জ্ঞান । কারো সাথে ঝগড়া লাগলে দুই লাইন ইংরেজি বলতে পারলে সব ঠান্ডা । ইংরেজি জানা লোকরে সবাই ভয় করে । এই উদ্ভট জ্ঞান সম্ভবত বংশপরম্পরায় পেয়েছিলেন বাপজান । ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে শ্রমিক দাদাজান সম্ভবত ইংরেজি জানা দেশী লোকের কদর দেখেছিলেন অফিশিয়াল সার্কেলে । সেখান থেকে বাপের মধ্যে প্রবাহিত সেই জ্ঞান বাপ চেয়েছিলেন পরবর্তী প্রজন্মে ট্রান্সমিট করে যেতে । আফসোস হইলো এতদিনেও বাপের সেই থিওরি প্রয়োগ করার মত ক্ষেত্র আসলো না । তেমন ঝগড়া কখনো বাস্তব জীবনে বাঁধলো না যেখানে কয়েক লাইন ইংরেজির ডান্ডা মেরে প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা করে দেয়া যেতো । সন্তানরা হইলো সব মুখচোরা নির্বিবাদ লোকজন ।

ধানভানতে এই শিবের গীত কেনো ? হোয়াট দ্য ফাক ইজ ইওর পয়েন্ট । পয়েন্ট হইলো গাজ্জালি পড়তে গিয়ে মনে হইলো কোন মহাজাগতিক নিয়মে বাপের হাজার বছর পূর্বের ইসলামি দার্শণিক গাজ্জালি যেনো এই টেকনিকই প্রয়োগ করতেন তার একাডেমিক ও দার্শণিক আলোচনায় । গাজ্জালির রচনা ও যুক্তি প্রয়োগের পদ্ধতি অনেকটা সেরকম । নাহ, কয়েক লাইন ইংরেজি বলে প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা করে দেয়া না । বরং একটা সামান্য পয়েন্ট প্রতিষ্ঠা করার জন্য গাজ্জালি উদাহরণের পর উদাহরণ, তারপর আরো উদাহরণ এবং তারপর আরো উদাহরণ ছুঁড়তে থাকনে অটোমেটিক মেশিনগানের মত । আল্লাহর কেরামত বুঝানোর জন্য , মশা, মাছি, পোকামাকড়, মানুষের হাত পা নাক মুখ চোখ কান হৃদপিন্ড রক্ত মাংস এমনকি একেকটা ইন্ডিভিজুয়াল হাড্ডি নিয়া পর্যন্ত প্যাঁচাল পাড়তেই থাকনে পাড়তেই থাকেন । তার প্রতিপক্ষ হয়তো চার পাঁচটা উদাহরণের পরই হাল ছেড়ে দিয়ে বরং পালাতে পারলেই যেনো বাঁচি , এই ধরণের মুডে চলে যেতেন । গাজ্জালির জীবনের মাস্টারপিস হচ্ছে ইহইয়া উলুম আল দীন । ইহইয়ার শুরু থেকেই গাজ্জালির এই মেশিনগান টেকনিক চোখে পড়ে কর্কশভাবে । গাজ্জালি শুরু করে জ্ঞান ও জ্ঞানী লোকের কদর নিয়ে । কোরান থেকে, হাদিস থেকে, বুজুর্গদের থেকে, শিক্ষকদের থেকে একের পর এক একের পর এক কোট করতে থাকেন অনর্গল কেবল এই একটা পয়েন্টেই । কিছুদূর পর পড়ার পরেই হাঁপিয়ে উঠি । ওকে , ওকে, আই ফাকিং গেট ইট । গেট টু দ্যা নেক্সট টপিক ফর ফাকস সেইক । আরেকটা ঝামেলা হইলো সিস্টেমেটিক নন-ফিকশন পড়ার কারণে যে অভ্যাস, যেকোন কোটেশনের উৎস, রেফারেন্স , বিশ্বাসযোগ্যতার ক্রসচেক এগুলো করতে গেলে বারবার হোঁচট খেতে হয় । কোরানের যেকোন কোটেশনের সাথে সাথে সুরা আর আয়াতের নাম্বার উল্লেখ করলেও , কোরানের পর থেকেই হাদিস, বুজুর্গদের কথা আর শিক্ষকদের থেকে নেয়া কোটেশনের কোনরকম সোর্স রেফারেন্স নাই । বুজুর্গ আর শিক্ষকদের কথা না হয় চেক না করা গেলো । কিন্তু হাদিসগুলার সোর্স উল্লেখ করলেতো অন্তত ক্রসচেক করা যেতো । গাজ্জালি এই বিষয় এড়িয়ে গেছেন কেবল তার ক্ষমতার জোরে । ইসলামিক দুনিয়ায় গাজ্জালি তখন নিজেই সোর্স, নিজেই রেফারেন্স । সেই ক্ষমতাবলে তিনি তৈরী করে গেছেন অনেকগুলো দেলোয়ার জাহান ঝন্টু হাদিস । ইউ নো, লাইক, বাংলা সিনেমার স্বামীর পায়ের তলে স্ত্রীর বেহেশত ।

ইহইয়া উলুম আল দীনের শুরুতেই দেখা পাই এমন এক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু হাদিসের । জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে সূদুর চীনে যাও । নিজের জীবদ্দশায় উদাহরনের অটোমেটিক মেশিনগান আর খ্যাতি ও ক্ষমতার জোরে মোটামুটি নির্বিঘ্নে পার হয়ে গেলেও , ইহইয়া উলুম আল দিনে ছোট একটা কথা থেকে ইসলামি ধর্মতত্ব ও দর্শণের দুনিয়াতে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী এক তিক্ত মহাযুদ্ধের সূচনা করে যান গাজ্জালি । কথাটি হচ্ছে, এই দুনিয়াদারীর এখন যে অবস্থায় আছে এটাই সম্ভাব্য সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থা । এর চাইতে ভালো কোন অবস্থা কোনভাবেই হওয়া সম্ভব ছিলো না । এই বোল্ড উচ্চারণের মধ্যে সমস্যা অনেক লেভেলের । একেবারে প্রাত্যাহিক পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে দুনিয়াদারীর যে অবস্থা গাজ্জালির সময়ে ছিলো বা এখনো আছে এর মধ্যে প্রতিটা মানুষই চাক্ষুষ দেখতে পাচ্ছে শত রকমের ঝামেল, অন্যায় , অবিচার, অনর্থক কষ্ট, লাখ লাখ ক্ষুধার্ত শিশু, কোটি কোটি খুন হচ্ছে বিনা অপরাধে, বিনা কারণে । এতকিছু চোখে দেখেও গাজ্জালি কিভাবে বলতে পারেন দুনিয়ার এই অবস্থাই সম্ভাব্য সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থা ? একেশ্বরবাদী দুনিয়ায় এই সমস্যা একেশ্বরবাদের সমান পুরনো । প্রাচীন ভালো খারাপ ঝড় বৃষ্টি রোদ খরার আলাদা আলাদা দেবদেবীকে একত্র করে একের ভিতরে অনেক প্যাকেজ ঈশ্বর যখন আসলেন তখনই সমস্যাটা মাথাচাড়া দেয় । পরম দয়ালু আর ন্যায়বান যে আল্লাহ, সেই আল্লাহই কিভাবে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষিত ও খুন হইতে দেন আরশ থেকে নিজের ফ্যাট এস সামান্য না নড়িয়ে ?

ইসলামের দুনিয়ায় এই সমস্যা সমাধানের প্রথম চেষ্টা চালান মুতাজিলা দার্শণিকরা । তাদের যুক্তি ছিলো দৃশ্যত এসব জঘন্য কার্যকলাপের মধ্যে আল্লাহর পরম দয়ার সন্ধান পাওয়া সম্ভব । আর এটা সম্ভব মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞান দিয়ে করা বিবেচনাতেই । যে আজ কষ্ট পাচ্ছে তাকে আল্লাহ ডালি ভরে দেবেন পরকালে , ইহকালে একটু কষ্ট দিয়ে আসলে দাম শোধ করে নিচ্ছেন । তারা উদাহরণ হিসাবে নিয়ে আসেন কিছু কষ্ট যেগুলো সহ্য করলে বড় কিছু পাবার আশা থাকে । পরিশ্রমের কষ্ট শেষে ফসল, ফোঁড়া কাটার কষ্টের শেষে রোগমুক্তির আনন্দ , প্রবীনদের মৃত্যুর কষ্টের ফলে নবীনদের জন্য দুনিয়ার অবস্থান ও সুযোগসুবিধা আসা এইসব । আরেকটু নির্লজ্জ উদাহরণ , কষ্টের কারণেই মানুষ কষ্টহীনতার মর্ম বুঝতে পারে । কারো হাত নাই, চোখ নাই । তার দূরাবস্থা দেখে অন্যরা নিজেদের হাত আর চোখের মর্যাদা বুঝতে পারে । হাত আর চোখ দেনেওয়ালা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করতে পারে । এসবের মধ্যে নানানরকমের ফাঁকি আছে । শত শত হাজার হাজার লাখ লাখ কষ্ট যন্ত্রণা অন্যায় অবিচারের উদাহরণ দেয়া সম্ভব যেগুলোর থেকে ভালো কিছু কোনভাবেই মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানের বিবেচনায় দেখা যায় না । আর পরের যে নির্লজ্জ্ব উদাহরণ, তার বিরুদ্ধে আসে অন্ধকে দিয়ে কেনো চোখওয়ালাদের চোখের মর্ম বুঝাতে হবে । যে অন্ধ তার কি দোষ ? সর্বশক্তিমান প্যান গ্যালাটিক রংবাজ আল্লাহ কেনো মানুষের অন্তরের মধ্যে আপোষে এই চোখ থাকার সুফলের জ্ঞান ঢুকিয়ে দিতে পারলেন না ? কেনো লাখ লাখ অন্ধের দরকার হইলো এইটুক কথা বুঝানোর জন্য । একটা দুইটা হইলেই কি চলতো না ?

মুতাজিলাদের এই নয়ছয় বুঝ দেয়ার কারণে যে আল্লার লুঙ্গিধুতিতে টান পড়ে যাবে সেটা বুঝতে পেরেছিলেন তাদের দল থেকে বের হয়ে হয়ে যাওয়া আশ'আরি দার্শণিকেরা । যারা সামথিং সামথিং আশ'আরি নামে এক বড় গুরুর চ্যালা । এই ভাঙ্গন এবং আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের দুনিয়াতে একটা কাহিনী প্রচলিত আছে । তিন ভাইয়ের গল্প । ঘটনা হইলো মুতাজিলা দার্শণিকরা যখন দুনিয়ার কোন অবিচার ও দুঃখ যন্ত্রণার থেকে ভালো কিছু আসার প্রক্রিয়া দেখাতে পারতেন না তখন তারা তোতাপাখির মত একটা বুলি আওড়াতেন । এই দুঃখ যন্ত্রণার কারণে আল্লাহ পরকালে পুরষ্কার দিবেন । কথিত আছে আশ'আরি স্বয়ং তার মুতাযিলা ওস্তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন একটা হাইপোথিটিক্যাল তিন ভাই সমস্যা নিয়ে । তিনভাইয়ের একজন বৃদ্ধ বয়সে মারা যায় নেককার বান্দা হিসাবে সে পায় বেহেশত । আরেকজনও বৃদ্ধ বয়সে মারা যায় তবে পাপী হিসাবে । সে পাইলো দোযখ । আরেকজন অল্প বয়সে মারা যায় নেক বা পাপের দায়দায়িত্ব নেয়ার বয়সে যাবার আগেই । যেহেতু তার পূণ্যপাপ কিছুই নাই । সে বেহেশত দোযখের কিছুই পায় না । এখন এই শিশুবয়সে মারা যাওয়া ভাই আল্লাহর কাছে যদি ফরিয়াদ জানায় যে হে খোদা কেনো তুমি আমাকে শিশুবয়সেই মৃত্যু দিলা । যদি আমাকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বাঁচতে দিতা তাহলে আমি নেক আমল করে বেহেশতে যেতে পারতাম । আল্লাহ এই শিশুকে কি জবাব দিবেন ? প্রশ্ন রাখেন আশ'আরি , তার ওস্তাদের কাছে । মুতাযিলি ওস্তাদ মুহূর্তের মধ্যে উত্তর দেন, আল্লাহ বলবেন , আমি সবজান্তা, অতীত ভবিষ্যত সবই আমি দেখি । আমি তোমার ভবিষ্যতে দেখেছিলাম যে তুমি বড় পাপী হবা । এজন্য তোমাকে অল্প বয়সেই উঠিয়ে নিয়েছি যাতে দোযখের যন্ত্রণায় পড়তে না হয় তোমাকে । বি গ্রেইটফুল, বিচ । আশ'আরি তখন ফান্দে আটকা পড়া বগা দেখার মত উত্তেজনায় বলেন, তাহলে যে ভাই বৃদ্ধাবস্থায় পাপী হিসাবে মারা গেলো সে কি বলতে পারে না যে হে খোদা কেনো তুমি আমাকে শিশুকালেই উঠাইয়া নিয়া গেলা না বা দড়ি ফালাইলানা যাতে আমি বেয়ে উঠে যেতে পারতাম ? ফাক বেহেশত, অন্তত দোযখের আগুনের এই নির্মম যন্ত্রণা থেকেতো বাঁচতাম । এই কথার বিপরীতে হতভম্ব হয়ে যান মুতাযিলি ওস্তাদ । কথিত আছে ।

টুটকা ফাটকা ছুতানাতা নিয়ে যারা মেতে থাকেন তেমন ইসলামি চিন্তাবিদরা বিভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করেন যে এই তিনভাইয়ের কাহিনী নিয়ে মুতাযিলি গুরুর সাথে আশ'আরির এই বাহাস আসলে বানানো ঘটনা । মিথ । ওয়েল, সেটা এই ধর্মতত্তের আলোচনায় একেবারেই অর্থহীন , পরম্পরাহীন । কারণ এই গল্প সত্য কি মিথ্যা , গল্পের পয়েন্ট সেটা না । গল্পের পয়েন্ট আরো বিস্তারিত । এর দার্শণিক মূল আরো অনেক গভীর । ইসলামের দুনিয়ায় পাপপূণ্য বেহেশত দোযখ এবং কর্মফল যতদিন আছে ততদিন এই প্রশ্ন প্রাসংগিক । কারণ কিছু ভালো লোক বৃদ্ধাবস্থায় মারা যায়, কিছু খারাপ লোক বৃদ্ধাবস্থায় মারা যায় , কিছু শিশু পাপপূণ্যের দায়িত্ব নেয়ার বয়স হবার আগেই মারা যায় । এটা সেই হাজার বছর আগে যেমন সত্য ছিলো এখনও আছে । পাপপূণ্যের হিসাবে যদি বেহেশত দোযখ আর অন্তর্বতী অবস্থার ফলাফল প্রাপ্তি ঠিক হয় তাহলে তিনভাই সমস্যা অত্যন্ত যৌক্তিক সমস্যা । একই দয়ালু আল্লাহ কিছুতেই তিনগোত্রের উপরই একইসাথে দয়ালু এবং ন্যায়বান হতে পারেন না । অন্তত মানুষের যুক্তিবুদ্ধিবিচারের জ্ঞানে কখনোই না । আশ'আরি দার্শণিকরা কুড়াল মারতে চান এই শেষের লাইনে । মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানের বিচারের উপর । মুতাযিলি দার্শণিকরা যে বলতেন মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানের বিচারেই আল্লাহর দয়া, ন্যায় ও অন্যান্য সব গুণ বুঝা সম্ভব , সেটা কেবল বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বাস্তব উদাহরণ দিতে পারতেন বলে সেই আত্নবিশ্বাস থেকেই যে, তা নয় । আসলে এরকম না হলে আরো গভীর একটা দার্শণিক সমস্যার তৈরী হয় সেটা তারা জানতেন । যদি মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে বুঝা না যায় তাহলে আল্লাহতে বিশ্বাস করবে কিভাবে মানুষ ? যদি আল্লাহর ব্যাপারে যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানকে শিকেয় তুলতে হয় তাহলে কিভাবে একজন বিশ্বাসী আরেকজন অবিশ্বাসীকে আল্লাহর ব্যাপারে ইমান আনতে বলবে ? এমনকি যদি আল্লাহ যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানের অতীত হয় তাহলে এই আল্লাহ যে আসলে কোন সিক পার্ভার্ট না তার নিশ্চয়তা কি ? সে হয়তো দেখা যাবে সবাইকে বলছে নামায পড় নামায পড় , আর পরকালে গেলে ভিলেনের মত হাসি দিয়ে বলছে এই একটু পাইযলামি করছিলাম তোমাদের সাথে । নামায যারা পড়েছিস তারা সব দোযখে যা । যারা মদসেক্সজুয়াড্রাগ নিয়ে ছিলি তারা বেহেশতে গিয়ে এগুলো নিয়েই থাক । আশ'আরি দার্শণিকরা এই সমস্যা নিয়ে অবগত ছিলেন না যে তা নয় । কিন্তু তারা দেখলেন যে এই সমস্যার মুতাযিলি সমাধানে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না । এজন্য আশ'আরিদের সমাধান ছিলো যে মানুষের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানের বিচার দিয়ে আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা ও দয়ালুতার বিচার করা যাবে না । ইন ফ্যাক্ট, ন্যায়পরায়ণতা বা দয়ালুতার যে স্ট্যান্ডার্ড মানুষ তৈরী করে নিয়েছে , এর সাথে আল্লাহকে বাঁধা যাবে না । আল্লাহ যা করেন কেবল তার নিজের ইচ্ছাতেই করেন । তিনি যা ন্যায় বলেন সেটাই ন্যায় । তিনি যেটা অন্যায় বলবেন সেটাই অন্যায় । কালকে ভোরে যদি তিনি বলেন এতদিন যেটা ভালো ছিলো সেটা আজকে থেকে খারাপ আর এতদিন যা খারাপ ছিলো সেটা আজকে থেকে ভালো , তাহলেও মানুষের কিছুই করার থাকবে না মেনে নেয়া ছাড়া । তারা দুনিয়ার দৃশ্যমাণ দুঃখযন্ত্রণাঅন্যায়অবিচার এবং সাথে সাথে আল্লাহর দয়া, নেয়ামত এইগুলার ব্যাখ্যাতে একটা চিপাবুদ্ধি যোগ করেন অবশ্য । চিপাবুদ্ধিটা হচ্ছে আল্লাহ মানুষকে ভালো কিছু দিতে বাধ্য নন বা খারাপ কিছু থেকে বাঁচাতেও বাধ্য নন । দুনিয়াতে আমরা যে ভালো দেখি সেটা আল্লাহ কেবলমাত্র নিজের খেয়ালেই দিয়েছেন । আর যা খারাপ দেখি, ওয়েল, সেগুলোর জন্য , দ্যাট ওল্ড ফাকিং সেইয়িং , আল্লাহ নো'জ বেস্ট ।

গাজ্জালি ছিলেন সেলযুক সুলতান ও তাদের দার্শণিক গুরু ও পরামর্শক নিযাম-উল-মূলকে ভাড়ায় খাটা বুদ্ধিজীবি । তার গডফাদার সেলযুক সুলতান আর নিযাম-উল-মূলকের ছত্রছায়াতেই তার পসার প্রতিপত্তি । নিযামিয়া মাদ্রাসার সেলিব্রেটি শিক্ষক গাজ্জালি । তার গডফাদারদের দার্শণিক অবস্থান, ধর্মতত্ত নিয়ে অবস্থান ছিলো আশ'আরি অবস্থান । হতে পারে এটা সহজ চিপাবুদ্ধি বলে অথবা হতে পারে এছাড়া আল্লাহর ধূতিলুঙ্গি বাঁচানোর অন্য কোন উপায় ছিলো না বলে । লেকচারে বিতর্কে একাডেমিতে গাজ্জালি ছিলেন তাই রূঢ়, কর্কশ, দুর্বার আশ'আরি দার্শণিক । কিন্তু অন্য যতকিছুই হোক, গাজ্জালি স্টুপিড ছিলেন, একথা বলা যায় না কোনভাবেই । যুক্তির কঠিন জ্ঞান, দর্শণের চিপাচাপা তার মুখস্ত ছিলো যদিও তিনি দার্শণিকদের ও নিয়মতান্ত্রিক ধর্মতাত্তিকদের উপর বেশ দুর্বার আক্রমণ করেছেন তার লেকচারে ও বিতর্কে ও একাডেমিক লেখায় । গডফাদারদের ফরমায়েশি দার্শণিকতা ও নিজের ভিতরের বুদ্ধিমান চিন্তাবিদের ক্রমাগত অন্তর্গত খোঁচার কারণে তাই গাজ্জালির ভিতর থেকে ভুটভাট নিজের অন্য কথার উল্টো কথা মাঝে মাঝেই বের হয়ে যেতো ।

নিজের ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে থেকে ও তার সেই অটোমেটিক মেশিনগানের মত উদাহরণের গুলি ঠা ঠা করে মেরে ব্যাক্তিজীবনে পার পেয়ে গেলেও সেইসব অন্তর্গত অসংগতি ধরা পড়তে থাকে পরবর্তীযুগের দার্শণিকদের কাছে । এমনকি ইহইয়া উলুম আল দিনের সেই ছোট কথার কারণে জীবদ্দশাতেও তার তিক্ত বিরোধীতা করেছে এমনকি তার ছাত্রদের কেউ কেউও । আবুবকর আল আরাবি নামে তার এক বিখ্যাত ছাত্র বলেন, আমাদের শেখ আবু হামিদ গাজ্জালি একটা কথা বলেছেন যার জন্য ইরাকের লোকেরা তার সমালোচনা করছে । আল্লাহর কসম, এটা সমালোচনা করার মতই কথা । "এই দুনিয়াদারীর এখন যে অবস্থায় আছে এটাই সম্ভাব্য সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থা । এর চাইতে ভালো কোন অবস্থা কোনভাবেই হওয়া সম্ভব ছিলো না । " এই কথাটিতে কি এমন ঝামেলা আছে যে প্রায় সহস্রাব্দ ব্যাপী এক তিক্ত দার্শণিক, ধর্মতাত্তিক যুদ্ধের জন্ম হয়েছিলো এই এক কথাতে ?

একটা বড় ঝামেলা ছিলো এ কথার ইন্টারপ্রিটেশন নিয়ে । গাজ্জালির নিজের যুগের ও পরবর্তী যুগের সমালোচকরা এই কথার বিভিন্ন অর্থ করেছেন নিজেরা । এই কথা থেকে যুক্তির পথ ধরে কি কি অনুস্বিদ্ধান্তে যাওয়া যায় সেগুলো তৈরী করেছেন নিজেরা । এইসব অনুস্বিদ্ধান্তগুলোই ছিলো তিক্ত ধর্মতাত্তিক যুদ্ধের মূল কাঁচামাল । গাজ্জালি হয়তো এতকিছু ভেবে বলে নাই, কিন্তু যদি তার কথা থেকে যৌক্তিকভাবে এগিয়েই কোন অনুস্বিদ্ধান্ত পাওয়া যায়, তবে তার দায়ভার গাজ্জালিকে নিতেই হবে । মূল যুদ্ধটা দুনিয়ার বর্তমান দুঃখযন্ত্রণাঅন্যায়অবিচারে ভরপুর থাকা সত্বেও কিভাবে এটাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্ভাব্য অবস্থা বলা যায় তা নিয়ে হয় নাই । মূল যুদ্ধ হয়েছে এই সর্বোচ্চ সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থা তৈরীতে আল্লাহর ভূমিকা নিয়ে । দুনিয়ার এই অবস্থা যদি সম্ভাব্য সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থা হয় , তাহলে আখিরাতের দরকার কি ? এটা অবশ্য গাজ্জালি এক ফুৎকারেই উড়িয়ে দেন এই বলে যে দুনিয়া বলতে তিনি দুনিয়া আখিরাত বেহেশত দোযখ কর্মফল সবকিছু মিলিয়েই বলেছেন । ভালো কথা । তাহলে আল্লাহ কি এর চাইতে ভালো কোন দুনিয়া তৈরী করতে পারতেন না ? যদি না পারেন তাতে কি তার ধূতিলুঙ্গির সর্বশক্তিমাণ গিঁটটিতে হ্যাঁচকা টান পড়ে না ? আর যদি এর চাইতেও ভালো কোন দুনিয়া তিনি তৈরী করতে পারতেন কিন্তু করেন নাই তাহলে তো তাকে পরম দয়ালু বলা যায় না কারণ তিনি সবচে ভালোটা এখনো দেন নাই । আবার সেই পুরাতন পরম দয়ালু আর পরম ক্ষমতার ক্যাচাল । নতুন করে আবার মাথাচাড়া দেয় পুরনো সেই সমস্যা । দুনিয়ার এই অবস্থা থেকে ভালো অবস্থার কত রকম সম্ভাবণাতো নিতান্ত গন্ডমূর্খটাও দিতে পারে । যেই চৌদ্দ বছরের কিশোরী তার সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে সে আজ মারা না গিয়ে সুস্থ্যসবল শিশুর জন্ম দিয়ে , ভালো কাজ করে বেহেশতে গেলে কি এমন ক্ষতি হতো । এমনতো অনেকের ক্ষেত্রেই হচ্ছে । গাজ্জালি সমাধান দেন , সবকিছু সব যদুমদুরামসাম বুঝবে না । আল্লাহর পরম জ্ঞানে নিশ্চয়ই এর মধ্যে ভালোকিছু আছে । এবার সামনে চলে আসে মুতাযিলি দার্শণিকদের সেই আদি সমস্যা । যদুমদুরামসামের যুক্তিবুদ্ধিজ্ঞানে যদি না বুঝা যায় তাহলে যদুমদুরামসাম কোন ভরসায় আল্লাহর আদেশ পালন করবে ?

ততদিনে গাজ্জালির বয়স হয়েছে । এত এত দার্শণিক সমস্যার সমাধান দিতে গিয়ে গাজ্জালি ক্রমাগত পিছলাতে থাকেন রহস্যময়তা ও সূফি দর্শনের গভীরে । এমনকি তার সারাজীবনের দেয়া শিক্ষার বিপরীতে গিয়ে বলতে থাকেন , এত কথা জিগানি ভালো না । সব কথা সবার বুঝন লাগবো না । চুপ থাক । তাকদির বা ভালোমন্দের পূর্বনির্ধারিত হয়ে যাওয়া নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন না তুলে । কারণ সেটা আল্লাহর একান্ত নিজের ব্যাপার । সাধারণ পাব্লিকের সেটা নিয়া চিন্তা করারও দরকার নাই । সমিস্যা আছে । বুদ্ধিবৃত্তিক সততার লেভেলে নীচে নামতে নামতে গাজ্জালি অতদূর পর্যন্ত চলে যান যে যুক্তি আর বিতর্কের বিপরীতে রুচির দাবী তুলেন । বলেন, সব কিছু বুঝার মত রুচি বা স্বাদ সবার নাই । যাদের আছে তারাই কেবল বুঝবে । এই কথা বললেতো আর প্রতিপক্ষের কিছু বলার থাকে না । এর সাথে যুক্তি দিয়ে মুখোমুখি হওয়ার মত অবস্থা আর নাই ।

অবশ্য ততদিনে নিজাম-উল-মূলক আর গাজ্জালির সবচে দীর্ঘতম গডফাদার পৃষ্ঠপোষক সেলযুক সুলতান মালিক শাহের মৃত্যু হয়েছে । দাপট, ক্ষমতা, সেলিব্রেটি স্ট্যাটাসও ততদিনে পড়তে শুরু করেছে । গাজ্জালি তখন পুরোদস্তুর সুফী । অবশ্য গাজ্জালির পুরো জীবন ও কর্ম একসাথে দেখলে বুঝা যায় তার ক্ষমতাবান, সেলিব্রেটি ও অটোমেটিক মেশিনগান পার্সোনালিটির অন্তরালে যে ক্ষুরধার চিন্তাবিদ ছিলো সেই চিন্তাবিদ শুরু থেকেই আল্লাহ ও তার বিভিন্ন গুনাগুন যেসব মৌলিক সমস্যা সেসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে উপায়ান্তর না দেখে সূফী রহস্যময়তার দিকে চলে যাচ্ছিলো ধীরে ধীরে অনেক আগে থেকেই । সমস্যা ছিলো তখনকার ইসলামি দুনিয়াতে বৃতের বাইরে চিন্তা করার উপায় ছিলো না । কারণ এসব বস্তা বস্তা বস্তাপচা যুক্তি দেয়ার চাইতে সহজ সমাধান ছিলো আল্লাহ বা স্রষ্টার ধারণা ত্যাগ করে বস্তুগত বিজ্ঞানের ভিত্তিতে দুনিয়া দেখা । আমার কেনো যেনো মনে হয়ে এখনকার দুনিয়াতে গাজ্জালি জন্ম নিলে সে পথেই আসতেন । তার যৌবনে একটা সময় স্রষ্টা নিয়ে সন্দেহে পড়েছিলেন সেই ইঙ্গিত ও পাওয়া যায় তার আত্নজীবনীতে ।

এতকিছুর শেষেও গাজ্জালিকে আমি শ্রদ্ধা করি । কারণ দিনশেষে তার ক্ষমতালোভী কপট ও কুতার্কিত সত্তার আড়ালে ছিলো আসলে পরমজ্ঞানপ্রাপ্ত এক চিন্তক । সেই চিন্তকের চিন্তাভাবনা মাঝে মাঝেই ভুটভাট বের হয়ে পড়তো আর সমালোচনার জন্ম দিতো । সেগুলোকে আবার ক্ষতার দাপট ও কুতর্ক দিয়েই চাপা দিতে হতো তাকে । যেমন ইহইয়া উলুম আল দীনের আগে লেখা আল ইকতিসাদ ফি-ইতিকাদ নামের বইয়ের একটা প্যারা । "মানুষের জন্য সবচে ভালো হত যদি তার জীবন হতো বেহেশতে দুঃখ শোক ছাড়া । কিন্তু বাস্তবতা যা তাতে, সত্যিকারের বুদ্ধিমান মানুষের সবচে প্রিয় চাওয়া হচ্ছে অস্তিত্বহীনতা । কোন বুদ্ধিমান বলেন, এমন যদি হতো আমি হতাম বিস্মৃত ও চিহ্নহীন, আরেকজন বলেন, আহা, আমার যদি অস্তিত্বই না থাকতো , আরেকজন বলেন, আমি যদি হতাম একটা খড়কূটো, অন্য আরেকন পাখির দিকে চেয়ে বলেন, আহা আমি যদি হতাম ঐ পাখির মত । এসব হচ্ছে নবী ও সত্যিকারের বুদ্ধিমান বুজুর্গদের কথা । এদের কেউ কেউ চাইতেন পরিপূর্ণ অস্তিত্বহীনতা আর কেউ কেউ চাইতেন তারা যেনো জড়বস্তু অথবা পশুপাখি হতেন, কারণ তাতে কোন দায়িত্ব থাকতো না । " উপরের এই প্যারারও সমালোচনা হয়েছে । কারণ এখানে গাজ্জালি যারা নিজেদের বর্তমান অবস্থার চাইতে ভালো কোন অবস্থা চাইছে তাদের সমর্থণ দিচ্ছেন । অথচ তার শিক্ষায় , বিতর্কে , একাডেমিক লেখায় তিনি এমন লোকদের খোদাদ্রোহীতার অভিযোগ করছিলেন । এমনই ছিলো গাজ্জালির ভিতরের মানুষটার অন্তর্দ্বন্দ আর বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার টানাপোড়েনে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকা আত্নার অবস্থা । ইকতিসাদের এই প্যারা থেকে বুঝা যায় গাজ্জালি গৌতম বুদ্ধের পরম জ্ঞানের খবর পেয়ে গিয়েছিলেন নিজের ভিতরে । নিজের মত করে । দিনশেষে গাজ্জালি বুঝেছেন যা সমস্ত সত্যিকারের বুদ্ধিমান বুঝতে পারে নিজের ভিতরে নিজের মত করে , শালা দুইন্যাডাই একটা কুত্তার বাচ্চা ।

Saturday, August 15, 2009

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী -১

এই ডিঈম ডিঈম বলে জানলার নীচ দিয়া ডিমওয়ালা ডাইকা গেলে , হঠাৎ গতকাইল রাইতের কথা মনে হয় । আমার আর মোন্তাজির দুইজনেরই । যদিও আইজ হোটেল আল-আমিন এ গরু ভুনা দিয়া তন্দুরের বিশাল ভোজ চালাইছি , তাও কাইল যা গ্যাছে তার জইন্য ডিম-দুধ খাইতে হৈব । স্বাভাবিক খাওন-দাওনে ঐটা পুষাইব না । একজন আরেকজনের দিকে চুখে চুখে না তাকিয়েও দুইজনে দুইটা কৈরা ডিম খাই । দামটা মোন্তাজিরই আগ বাড়াইয়া দেয় । অন্য সময় হৈলে আমি দেয়ার জইন্য বাৎচিত করলাম । তয় আইজ মনে হৈল, কতা যত কম উচ্চারণ করা যায় ততই মঙ্গল ।

এই মাদরাছার বিশাল এরিয়া রাইতেও পুরা সজাগ । কুনো না কুনো রুমে কেউ না কেউ জাইগা আছে । কেউ কুরান তিলাওয়াত করতাছে , কেউ উর্দু কিতাব মুখস্ত করতাছে । আর শয়তানডির কেউ কেউ হয়ত মুমবাত্তি জালাইয়া তাস পিটাইতাছে । মোহতারাম ছাব না হৈলেও ছাত্রাবাসের হুজুর মাঝে মইধ্যে রাইত বিরাইতে জানালা দিয়া কান পাইতা শুনেন পুলাপাইন কি করতাছে । পুলাপাইনও চালাক কম না । খেলব এক্কেবারে মুখে তালা মাইরা । ট্যাকার হিসাব, ডাক দেয়া ডাক নেয়া সবই ইশারা ইঙ্গিতে চলে । আওয়াজ নাই বৈলা সাধারণত কুনো কোন্দলও লাগে না । বোবার কুনো শত্রু নাই হাছা কতা ।

চাইরকোণা ছাত্রাবাসের চাইর তলা মিলাইয়া দুইশর মত রুম । মাইঝখানে ঘাসে ঢাকা মাঠ । বাইরের দিকের জানলা দিয়া দীঘিপাড়ের বাজার দেখা যায় । মাইঝরাইত তমাত ঐখানে বেচাকিনা চলে । উপরে সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলোয় মায়াময় মায়াময় লাগে । মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে গিয়া দীঘির পাড়ে বসি । বেলাজ মাইয়ারা পুলাবন্ধুগো লগে রংঢং করে দীঘির পাড়ে বৈসা । ওরা অবশ্য মোটামুটি প্রথম রাইতেই চৈলা যায় । রাইত একটার পরে ডিম, বাদাম, চানাচুরঅলা ছাড়া আর কেউ থাকে না । চাইরপাশে ঘুইরা ঘুইরা ওরা চিল্লায় । ডিঈম ডিঈম, বাআদেম বুট বাআদেম বুট ।

রাইতে বাইরে যাওয়া মোহতারাম ছাবের কড়া মানা । তয় যাওয়া যে যায়ন তা কিন্তু না । দারোয়ানরে ট্যাকাটুকা দেওয়া হয় মাঝে মইধ্যে । গেটের পাশেই ওর খুপরি । ভিতর বাইর দুইদিকেই দরজা আছে। তয় সেইডা ছাড়াও ব্যবস্থা আছে । লোহা দিয়া খুচাইয়া খুচাইয়া জানলার দুইটা শিক আলগা করা আছে । কাকপক্ষিরে টের না পাওয়াইয়া যাইতে চাইলে সেই রুট খুলা হয় । নীচের তলায় ঘর পাওয়াতে এই সুবিধা আমাগো রুমে । মাঝে মাঝে উপরের পুলাপানও এই রুম দিয়া পার হয় । তয় কুনোদিনই আমরা একসাথে অনেকে বাইর হৈ না । বাইরের পাব্লিকের চোখে পড়লে এই কান সেই কান হৈয়া মোহতারাম ছাবের কানে কতা যাইতে কতক্ষণ । শিডিউল ঠিক করা থাকে দিনেই । কাকপক্ষিও না জানলেও দুস্তরা ঠিকই জানে কে কখন বাইরে যাইতাছে । তয় এই ওয়াদা জানের ওয়াদা । জান যাইব তাও কেউ স্বীকার করব না অন্য কেডা বাইরে গেছিল ।

রুম থাইকা মনে হয় বাইরে বাইর হৈলে দীঘির পাড়ে গিয়া হাটতে ভাল্লাগবো অথবা দীঘির ডাইনপাশে ছুট্ট পার্কের বেঞ্চে বৈসা থাকতে ভাল্লাগবো । কিন্তু বাইরে যেদিন বাইর হৈ সেদিন মনে হয় এত বিপদ মাথায় নিয়া বাইর হৈয়া এইসব আবালের মত কাজে সময় নষ্ট করার কুনো মানে অয় না । হয় মোছাদ্দেক ঘাডে গিয়া সিরকেট খাওন, আর না হৈলে মোছাদ্দেক ঘাটেরই একটু পশ্চিমে আধা গেরাম আধা শহরের মত কইল্যানপুর রাস্তার মাথায় গিয়া , এলাকার দুস্ত শফিকের ভিসিআর এর দুকানে বুলু দেখা ।

বুলু দেখার সময় সারা শইল্যে গরম ভাপ জাগে কিন্তু ফিরা আসার সময়ডা সবাই চুপচাপ । মনে মনে হাজারবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে পড়তে ফিরা হয় । মোটামুটি প্রতিবারই । যেগুলির সাহস বেশি হেইগুলি কতডি কইল্যানপুর বাজারের মাগির ঘরেও যায় । কিন্তু গোপনীয়তা এক্কেবারে প্রসিডেন্ট লেভেল । মাগি নিজেও চেহারা দেখতে পারে না । কুনো কতাও হয় না । আমার কইলজা এখনো অত বড় হয় নাই । যেগুলি যায় অগো কাছ থাইকা হুনি আর গরম গরম হৈ । লগে লগে এস্তেন্জার কথা বৈলা যাওন যায় না । পুলাপাইন বদমাইশ । হাসাহাসি করে । আর রাইতে গোসল করতে দেখলেতো অবস্থা আরো খারাপ । এই কয়েকমাস প্রায় প্রতিডা ফজরেই ফরজ গোসল না কৈরা খালি ওজু দিয়া নামাজে দাড়াই । পরে দুপুরে গোসল কৈরা পাক পবিত্র হৈয়া জুহরের পর , আর জুম্মার দিনে আল্লার কাছে কান্দি । গুনা মাফ করার জইন্য ।

মাঝে মইধ্যে মনের মইধ্যে সন্দ জাগে । এই যে বয়সের খাই আল্লায় ত ভালাই জানে । আর আমার আট ভাই । আমার উপরেই আরো চাইরডা । সবডি আবিয়াত্যা । আল্লায় ত জানেই বিয়া করাও সম্ভব না আবার জিনা না কৈরাও থাকা সম্ভব না , তাইলে আল্লায় ক্যান বানাইলো এত কঠিন নিয়ম । তাও খালি ঢুকাইলেই জিনা হয় তা না । হাতের জিনা চুখের জিনা কত কিছু । একবার জিনা করলে বিশ বচ্ছরের ইবাদত নষ্ট হৈয়া যায় । জীবনডাই আমার বিশ বচ্ছরের । নষ্টতো হৈয়া গ্যাছে মনে হয় কয়েক লাখ বচ্ছরের । তয় আল্লা গাফুরুর রাহীম । উনার দয়ার কুলকিনারা নাই । পাক দিলে তওবা করলে নিশ্চয়ই বুঝবেন ।

নাকি কুনো অল্পদৃষ্টিওয়ালা আবাল মানুষ বানাইলো এই নিয়ম । বানাইয়া আল্লার নাম দিলো । শইল গরম হৈয়া গ্যালে মনে জাগে এডি বেশি । আবার বাইর হৈয়া গ্যালে আস্তাগফিরুল্লাহ বৈলা বাম পাশে তিনবার ছ্যাপ ফালাই । নবি কৈছে ঐগিলি শয়তানের কুমন্ত্রণা । ঐগিলি মাথায় আইলে এই কাম করতে হয় । বেহেশতের হুরগো কতা মনে কৈরা মনরে বুঝাই । ভালা জিনিস পাইতে হৈলে সবুর করতে হয় । মিন্নত করতে হয় ।

তয় কাইল রাইতে যা হৈল তা এক্কেবারে নতুন । মনের অনুতাপের ধরণটাও ছিল তীব্র আর নতুন । রাইতে চুপেচুপে আবার বাইর হৈয়া দীগির বরফের মত ঠান্ডা পানিতে, এক্কেরে দুরের কুনাটাতে গিয়া গুছল কৈরা আইসা তাহাজ্জুদ নামায পড়লাম বারো রাকাত । নীরবে কানলাম আল্লার কাছে অনেক্ষণ । তওবার দোয়া পড়লাম এক হাজার বার । মনের অনুতাপ একটু কমলেও অহনো চুখে চুখে তাকাইতে পারতাছি না মোনতাজিরের ।

মোনতাজিরের সাথে পরিচয় এই মাদরাছাতে আসার পরেই । বড় ভাই এইখান থাইকা পাশ করছিলেন । এই মাদরাছার উপর আলাদা একটা আকর্ষণ আছে । পরথম দিন দরখাস্ত পূরণ করতে গিয়া মোনতাজিরের কাছে কলম চাইতেই কৈল দোকানে যান আমি কি কলম বেচি নাকি । কিন্তু মুখের ভাব দেইখা বুঝলাম , পুলা আমার মতই মজা কৈরা কথা কৈতে পছন্দ করে ।একখান বোকা হাসি দিয়া ওর হাত থাইকা কলমডা কাইড়া নিয়া কৈলাম এইবার চাইলে কিন্তু আমি একই কতা কমু । সেই থাইকা দুইজনের ভিতর যে মিল হৈল, সেইডা একই রুমের জইন্য দরখাস্ত করার পর থাইকা, একসাথে থাকার এই নয় মাস পর্যন্ত এখনো একটু ও কমে নাই ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-২

গত রাইতে শয়তানে ভালোভাবেই পাইছিল মনে হয় আমারে আর মোন্তাজির দুইজনেরেই । নাইলে সিরকেট খাইয়া ফিরাই আসছিলাম হঠাৎ আমি কৈলাম চল বাইরাইছি যখন বুলুও দেইখা আসি । শফিকরে খবর দেয়া ছিল না । ওর দোকানের একটু আগে থাইমা মাহবুব রে পাঠাইলাম টুপি পান্জাবি খুইলা । দোকানে কখন কেডা থাকে কওন যায় না । পরে দোকানের পিছে শফিকের সাথে ব্যবস্থা ঠিক কৈরা আধঘন্টার মত শীতের মইধ্যে দাড়াইয়া থাকতে হৈল । দোকান বন্ধ কৈরা শফিক পিছের ছুড দরজাটা খুইলা দিলে ভিতরে ঢুইকা বুলু দেখা শুরু করি ।

কাইল নতুন একটা ক্যাসেট ছিল । আগে কুনুবার এইরকম দেখি নাই । যতবার দেখছি, দেখতাম ক্যাসেট চালাইলেই চাটাচাটি তারপর কাম শুরু । কাপড়-চোপড় খুলাই থাকত । কাইল দেখলাম । কেলাশরুম , মাঝবয়সের মাইয়া টিচার আর জুয়ান কিছু পুলা মাইয়া ছাত্র । আজীবন মাদরাছাতেই কাটলো আমগো । মাইয়ামানুষ টিচার বেদ্বীন পুলাপাইনের বাংলা ইশকুলে থাকে বৈলা শুনতাম । নিজের জীবনে কুনো উদাহরণ নাই । মাইয়ামানুষ টিচারের চেহারা দেইখাই বুঝছিলাম ঘটনা কি হৈতে যাইতাছে । বাংলা ইশকুলে যে আকাম হওয়ার চান্স আছে ভালো রকমেরই এইটা নিয়া মোন্তাজেরের সাথে কিছুক্ষণ আলুচনা করলাম । মোন্তাজেরের মন নাই । ওর এই একটা দুষ । বুলু দেখনে সময় মনে হয় পারলে টিভিডারেই গিলা খাইয়া ফালায় ।

ফিরার পথে আমার আর তওবায় মন থাকে না । আসতাগফিরুল্লাহ বৈলা মন বসাইতে চাই কিন্তু খালি ঘুইরা ফিরা বাংলা ইশকুলরে পুলাপাবের ভাইগ্যের কতা মনে হয় । ওরা দোযখে ক্যামনে পুড়ব এইটা মনে কৈরা মনরে ফিরানির চেষ্টা করি , কাম হয়না । মনে মনে নিজেরে বাংলা ইশকুলে কল্পনা করি । টিচারের মুখ আসে কল্পনায় । এর বেশি আগায় না । ল্যাংটা মানুষ কেবল ভিসিআরএই দেখছি । একবার গিরামের অলির ঘরে ফুটা দিয়া দেখার চেষ্টা করছিলাম । অলি মিয়া তখন নয়া বিদেশ থাইকা আইছে । আইয়াই ৩ দিন পরে বিয়া । কিছু দেখতে পারি নাই । এমনিতেই আন্ধার তার উপর গরমের দিনেও দুইজনে খেতার তলে । খালি লারাচাড়া দেখছিলাম ।

ফিরার পথে থাইকা থাইকা একেকবার মন এমন গরম হয়, মনে মনে ঠিক কৈরা ফালাই আব্বারে গিয়া কই আমি বাংলা ইশকুলে ভর্তি হৈতাম চাই । বাংলা লেকতে পারি মোটামুটি । পড়তে হয় বানান কৈরা । কয়েকদিন চেষ্টা করলে ঠিক হৈয়া যাইব । কিন্তু বড় ভাই হুনলে পিটাইয়া হাড্ডি ভাইঙা দিব । আব্বারে বলার সাহস কুনোরকমে জোগাড় করতে পারলেও বড় ভাইর সওয়াল জবাবের সামনে দাঁড়ানির সাহস নাই । শালার জীবনে কিছুই নিজের মনমত হৈল না । বড় পুলা হৈলে কত সুবিধাই না হৈত । বড় ভাই মাদরাছা শেষ করছে তিন বছর হৈল । গিরামের মসজিদের ইমাম । এখনো একটা ভালো ঘর নাই বৈলা বিয়া করানোর সাহস নাই । দিনদিন বড় ভাইয়ের মিজাজ কেবল খিটখিটা হৈতাছে ।

ফিরা আইসা দুইজন দুই বিল্ডিংএ গেলাম এস্তেন্জা করতে । আইসা লুঙি পাল্টাইয়া শুইয়া গেলাম । শইল্যের অনেক কিছু বাইর হৈয়া গেল আইজ । কাইল একটা আম-দুধ কিনা খাইতে হৈব । ডিম একটা খাইলে ভালো হৈত । তয় আইজ আর সেইরকম মিজাজের অবস্থা নাই । নীচতলার রুমগুলাতে ঠান্ডা মারাত্নক । লেপকম্বল যাই গায়ে দেই, শিনশিনা একটা ঠান্ডা ভাব থাকেই । বড় বড় দুইটা কম্বল আছে তাই মাসখানেক আগে থাইকা মোন্তাজির আর আমি এক বিছনাতেই শুই । তাড়াতাড়ি গরম হয় কম্বলের তলা ।

প্রায় দিনই কেলাস শেষ হওয়ার পরে মাগরেব পর্যন্ত সময়ডা কিছু করার থাকে না । হুদা কামেই পাছরাপাছরি করি আমি আর মোন্তাজির । কে কারে চাইপা ধইরা রাখতে পারে কতক্ষণ । আইজ বাতাসটা একটু ভারি বইলা হালকা করনের লাইগা মোন্তাজিররে আন্জা কইরা ধরলাম । ধৈরাই একটু চমকাইয়া গেলাম । এইরকম অনেক বার করছি । আইজ কেন জানি মোন্তাজির পিছন দিকটার সাথে রান লাগাতে শইল্যে একটা কারেন্টের শকের মত লাগলো । মোন্তাজিরও ঘুইরা আন্জা কৈরা ধরল ।

তারপর কি হৈল বুঝলাম না । বুঝার আগেই একজনের হাত আরেকজনের লজ্জাস্থানে । ধুর ব্যাটা বৈলা ঘুরছিল মোন্তাজির । এখন এক্কেবারে চুপ । দুইজনের নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া কোনো শব্দ নাই । কয়েক সেকেন্ড এর মইধ্যেই দুইজনের লুঙি থ্যাকথ্যাকা । দুইজনের কেউই উঠলাম না । হাত ধুইতে গেলাম না । দুইপাশ ফিরা শুইয়া পড়লাম । আধাঘুম চৈলা আসছে এমন সময় পাশ ফিরা শুইতে গিয়া আবার লাগল মোন্তাজিরের ঐজায়গায় । এইবার আর হাত লাগল না । কিছুক্ষণ চাইপা ধরাতেই কারবার শেষ ।

তাহাজ্জুদের পর আর ঘুমাই নাই । কোরান পড়ছি । ফজরের সময় উইঠা নামাজে গিয়া দেখি বোর্ডিং এর হুজুর ছাব আসেন নাই । উপরের জমাত এর ছাত্ররা ঠেলাঠেলি কইরা আমারেই পাঠায়া দিলো ইমামতিতে । মসজিদ থাইকা বাইর হওনের সময় দেখি মোন্তাজির বৈসা আছে কোরান নিয়া । গিয়া কিছু কওয়ার মত অবস্থা নাই । রুমে আইসা কান্দলাম কিছুক্ষণ আল্লার দরবারে । বান্দার অনুতাপের চোখের পানি আল্লার খুবই প্রিয় । দোজাহানের মালিক, দয়ালু, ক্ষমাশীল গাফুরুর রাহিম বুঝবেন । বান্দার মনের অবস্থা তার চাইতে ভালো আর কে জানে ।

নিজের মনের আগুন তাও নিভলো না । সারাক্ষণ খচখচ একটা ভাব লাইগাই আছে । মোন্তাজির আর আমি কেউ কারো দিকে চোখ তুইলা তাকাইতে পারতাছি না । বিকালে আল-আমিন এ যাওয়ার সময় শুধু বল্লাম চল । সারাদিনে আর কোনো কথা হয় নাই । রাইতে শুইলাম আলাদা আলাদা । ঠান্ডা ভাবের কারণে ঘুম আসে না । আওয়াজ শুইনা বুঝি মোন্তাজির এর ও একই অবস্থা । হুজুরের কাছে ছুটি চাইতে যামু ঠিক করলাম । আগামিকাইল শুক্রবারতো এমনি বন্ধ, আর এক দিন হৈলেই চলব । মনের ভার হাল্কা করার মততো মোন্তাজির ছাড়া আর একজনই আছে । তার কাছে যাইতে হৈব ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৩

গেরামের মাদরাছাতেই আমার পড়ালেখার মোটামুটি ধরতে গ্যালে পুরাডাই । মেঝ ভাই ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাদরাছায় পড়েছিলেন বছর তিনেক । গেরামে তার একটা আলাদা কদর আছে । এখন ঢাকায় মামার কাপড়ের দোকানে ব্লাউজ জাইঙ্গা বেচেন । গেরামে আইলে তার দিকে লুকজনের নজরই আলাদা । আব্বা নিজে সারাবছর তাবলীগ কইরা বেড়াইলেও মেঝ ভাইর কাছ থেকে মাছলা মাসায়েলের জ্ঞান নেন । আপনে কৈরা ডাকেন তারে । আর আমি হাটহাজারি থাইকা পাঁচ পাঁচটা মাস পরে আইলেও গেমারের লুকজনের মুখের ভাবে তেমন কুনো চেইন্জ পাই না । শালারা সম্মান করতে শিখলো না আলেম ওলামাগো । আব্বার চেষ্টাচরিত্রে লুকজন নামাযে যায় মোটামুটি দুই তিনবার । কিন্তু আলেম ওলামার মর্যাদা এখনো ভালোমত দিতে শিখলো না ।

শুধু দুইজন মাইনষের কাছে আলাদা । আম্মাজান বার সন্তানের জননী কিন্তু তারপরও আলাদা কৈরা সবার কতা মনে রাখেন । আমি আসলে কষ্টে পালা হাসটা জবাই করে দেন । সবার আগে আমারে খাইতে বসান । আমি উঠলে তারপর বাকি সবাইরে । মেঝ ভাই আসলেও এর উল্টা হয় না । তখন আমরা দুইজন । বড়মেঝ ভাই , আব্বার কাছ থেকে চেয়ে নেয়া আঁচলের গিঠে বাইন্ধা রাখা ট্যাকা হাতে গুজে দেন মাদরাছায় ফিরে যাবার সময় । নিজের জীবন নিয়া যাই করি আম্মাজানকে কষ্ট দিতে পারবো না আমি কিছুতেই ।

ছুডকালের দুস্ত খুরশিদ এর চাচাত বোন কুলসুমা । কালো মেয়েটার মনে এত দরদ আর কফালে এত দুঃখ দুইটা একসাথে কেন দিল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমি বুঝি না । এত দরদ নিয়া কালো মেয়েটাতো জীবনে কেবল কষ্টই পাইব । প্রতিবার তারে বলি কষ্ট না পাওয়ার চেষ্টা করতে । আমার উপর দরদ কমাইতে । কিন্তু কিসে কি , দিনদিন তার মায়াময় চোখ খালি আরো মায়াময় হৈতাছে ।

ভর দুপুরই একমাত্র সময় যখন কুলসুমার সাথে কথা বলা যায় গেরামের সবার চোখ এড়াইয়া । খুরশিদ দুই গেরাম পরের পায়েরখোলা মাদরাছার বোর্ডিং এ থাকে । শনিবারে ও ঐখানেই থাকবে, এটা ভালোমত জাইনাই আমি ভর দুপুরে ওরে খুজতে ওদের বাড়ি যাই । কুলসুমার ভিতরে মনে হয় কোন গায়েবি আয়না আছে । গিয়া দেখি কুলসুমা খুরশিদ এর ছুড বৈনটার চুল আঁচড়াইয়া দিতাছে । পিচ্চিটাও জবর ট্যটন । আমারে দেইখাই কয় সুনো নিয়া আসি । বলে চলে যায় । আসবে না আর ২ ঘন্টাতেও ।

দরজা খোলা রেখে , আমি চৌকিতে কুলসুমা দরজার চৌকাঠে বসে অদ্ভুত মায়াময় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে । তাকে বলি আমার মনের যন্ত্রণা অনুশোচনার কথা । খুরশিদ এর বুড়া মা কানে শুনেননা । আর শুনলেও বেশি কিছু কথা আমরা বলি না । দুজনের মাঝে সব কথা বলতে হয় না । মেয়েটা বুঝে বেশি, ভালোবাসে বেশি । যত বলি শুনে না । ভালোবাসে আর কাঁদে । বলে মাগরেবের আধঘন্টাখানেক পরে ওদের বাড়ির পিছনের জংলাতে আসতে । ধমক দিয়ে চুপ করাইয়া দিই ওরে । জগৎ উল্টা হৈয়া গেলেও ওর গায়ে কলংকের কালি লাগতে পারে তার হাজারের মইধ্যে একভাগ সম্ভাবনা আছে এমন কোনো কাজ আমি করতে পারব না । দরকার হৈলে শইল্যের বেয়াড়া অঙ্গটারে কাইট্যা খাসি হৈয়া যামু ।

তয় খালেদার কথা আলাদা । খালেদার কথা আবার কুলসুমাকে বলা যায় না । খালেদা মাগিটার দুধ দিনদিন তালের মত বড় হৈতাছে । চলনবলনে তেমন একটা খেয়াল নাই । কিন্তু ধুরন্ধর মারাত্নক । দুধে হাত দিতে দিব, আন্জা কইরা ধরতে দিব । এর বেশি কিছু চাইলেই মারব দৌড় । আজ ওর কাছে যাবার মত মনের অবস্থা নাই । এত অনুতাপের ভার পরপর দুইদিনে নিতে পারমু না ।

আমার জীবুনটা খাঁখাঁই থাকে । যারে নিয়া থাকতে চাই দিনভর, লুকলজ্জা সমাজের কারণে তার সাথে একান্তে দুইখান কতাও কইতে পারি না । উপরে চাইর চাইরডা ভাই । বিয়া করনের কতা মুখেও আনা যাইব না । হুজুর খালি কয় আল্লার রশিতে দুইন্যায়ও শান্তি, আখেরাতেও মুক্তি । এইডা দুইন্যাতে শান্তি ? । মাঝে মইধ্যে টিভিতে দেখি ইহুদি নাছারাগো সুন্দর সুন্দর সাদা মাইয়ারা বত্রিশটা দাঁতা বাইর কৈরা স্যান্ডু গেন্জি পইরা রাস্তা দিয়া হাঁটতাছে । পাশের পুলাগুলা একেকটা হিরুর মত । আখেরাতে সত্তইরডা হুর দিব বালা কথা দুইন্যাতে কি ঐরকম একটা মাইয়াও দেউন যাইত না আমাগোরে । অত কিছু ও তো চাইনা । কুলসুমারেও কি দেওন যাইত না । কুলসুমার বয়স বাড়তাছে । খালি কালা বৈলা ওর বিয়ায় দেরী হৈতাছে । আর এক বছরের মইধ্যে তো যেকোনমতেই হৈয়া যাইব । আমি মেহমানদারী করমু । বরযাত্রী খাওয়ামু । কানতে কানতে কুলসুমা যাইব । সবাই ভাববো বাপের বাড়ি ছাইড়া যাইতাছে বৈলা কানতাছে । খালি ও আর আমি জানমু কেন এত কান্দে মাইয়া ।

হাটহাজারীতে আমার পরের তিনটি মাস খুব তাড়াতাড়ি কাইটা যায় । মাত্র একবছরের বড় মাদরাছা জীবন অনেক ঘটনা । অনেক স্মৃতি । একসময় মনে হয় খুব কষ্টের আবার আরেকসময় মনে হয় অনেক সুখের । রাতের বাইরে যাবার দুঃসাহসিক সময়গুলার যে থিরিল, সেইডা আরে কিছুতে পাই নাই জীবনে । বাড়ির পিছনে খালেদার দুধে হাত দেয়ার সময়েও না ।

মোন্তাজির এর সাথে সহজ হতে তিন চারদিন লাগে । এরপর আমরা আলাদা বিছানাতেই ঘুমাতাম । সপ্তাহখানেক । তারপর আবার আগের মত । বাজারের আন্ধার ঘরে যাওনের মত সাহস যেহেতু জোগাইতে পারি নাই । বুলু দেইখা আসার দিন একই ঘটনে পরেও ঘটছে । তয় নো টক টাইম এত দীর্ঘ হয় নাই কখনো পরথম বারের মত । মনের অনুতাপের ঝড়ের বেগও কমে আসছিল । একবার ফিলিস্তিন থাইকা এক জামাত আইলো । মোহতারাম ছাব সেই জামাত নিয়া রুমে রুমে ঘুরলেন গভীর রাতে । কোরান ছোঁয়াইয়া শপথ নিলেন কাউরে যাতে এই ঘটনা না বলি । কয়েকজন বিদেশে জামাতে যাবার কথা বলে চলে গেল দুই সপ্তাহের মধ্যে । তাদেরকে আগে আগে গ্র্যাজুয়েট পাগড়ি দিয়ে দেয়া হল অল্প কয়েকজন মিলে । মোন্তাজির চলে গেল । অনেক বলে কয়ে ঠেকাইতে চাইছিলাম । বেচারার অনুশোচনার আগুন অনেক তীব্র । ওর চোখ দেইখা বুঝছিলাম , বাঁচার সাধ নাই । কুলসুমার মায়াময় চোখ জীবনে অন্তত আরেকবার দেখার সম্ভাবনা যদ্দিন আছে, আমি পারমু না ।

পাশ করে গেরামে ফিরা আইসা শুরু হৈল আমার কইলজা খুইলা ঝইরা পড়ার জন্য অপেক্ষা ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৪

গেরামে এসে পরথম কয়েকদিন টাল্টিবাল্টি করে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত একটা কাজে হাত দিতে হয় । গেরামে মসজিদ দুইটা । দুইটার একটার ইমাম বড় ভাই আরেকটার ইমাম আমার উপরের জন । সাইঝা অর্থাৎ উপর থেকে তিন নম্বর ভাইটা দুই গেরাম পরে নানার বাড়ির একমাত্র মসজিদের ইমাম আর সাথে সাথে ছোট একটা মাদরাছায় পড়ায় । বড় ভাই একটা ভোদাইমার্কা পাব্লিক । মিজাজ দেখানোর দিক দিয়া না । জীবনে যেন কুনো উদ্দেশ্য নাই । আমার উপরের ভাইডা একটা আস্তা দরবেশ । হাফেজি পড়ে সেইযে থানা শহরের মাদরাছায় গেল তারপর থাইকা জীবনের যৌবনের উপর তার যেন কোনো মোহই নাই । গেরামেরই দুরের কিনারের মসজিদে থাকে সপ্তাহেও একবার বাড়িতে আসে না । মসজিদেই পইড়া থাকে । পাশে ইমামছাবের ঘর আছে ঐখানে থাকে । সাইঝা ভাই এট্টা উড়নচন্ডী । তুই আলেম মানুষ তোর এত সাজগোজ ফ্যাশন এর কি আছে । মাসে মাসে ঢাকায় মামা খালার বাড়ী যায় । নতুন নতুন কুর্তা পায়জামা বানায় । ফেয়ার এন্ড লাভলি মাখে দুপুরে গোছল কৈরা । অর সাথে ঠিকমত চাইরকথা কওন যায় না । দুই কথার পরই লাইগা যায় । আমার কাম হৈল তাই শেষ পর্যন্ত বাপের দোকান দেখা । আর কারণে অকারণে তার লম্ফা লম্ফা বক্তৃতা শুনা ।

আব্বাজান তাবলীগ আর পরকাল নিয়া আছেন । দোকান একটা আছে মাসে দশ দিন থাকে বন্ধ । যখন খোলা তাও আমার ছুড ভাইডির একটারে বসাইয়া দিয়া তিনি কোরান তিলাওয়াতে মগ্ন থাকেন । মাঝে মাঝে মিজাজ যায় খিঁচড়াইয়া । একদিন তারে সূরা জুমআর আয়াত মাইরা কৈলাম দুনিয়াদারি ছাইড়া দিতে তো আল্লাহ নিষেধ করছেন । করলাম নাকি একটা আকাম । শুরু হৈল দুই ঘন্টার সওয়াল জবাব আর লেকচার । কোন বুজুর্গের খাওন কৈ থাইকা আসত কুন ছাহাবি কিভাবে এবাদতে মশগুল থাকত এইগুলা নিয়া শুরু হৈল হাবিজাবি । সামনে থাইকা সইরাও যাওন যায়না । ধমকাইয়া বসাইয়া দেন । মন এম্নিতেই খারাপ । কুলসুমার বিয়ার কথা মোটামুটি পাকাপাকি । আমিই গা কৈরা পাত্রপক্ষের লুকজনরে বুঝাইয়া ঠিকঠাক কৈরা দিতাছি । দুপুর বেলা যেইভাবে জলভরা চোখ নিয়া কৈল , আফনে দোকান থাইকা ইঁদুর মারার বিষ আইনা দেন তাও আমার বিয়া ঠিক কৈরেন না । ধমক দিয়া সৈরা আসলেও সেই চোখ কিছুতেই ভুলতাম পারতাছি না । তার মৈধ্যে এই কিচ্ছা কাহিনী ।

রাখেন আফনের কাহিনী বৈলা আমি উইঠা দৌড় মারলাম । বুকের মইধ্য ধুপধাপ শব্দ নিয়া বাড়ি থাইকা বাইরে দিলাম দৌড় । জীবনে কখনো আব্বাজানের সাথে এমন বেয়াদবি করি নাই । তাছাড়া এখন কৈরাও ভয়ডা আব্বাজানের না । বড় ভাইর । পেছন থাইকা শুনলাম আব্বা ধমক দিতাছেন । মা-বাবার লগে বেয়াদবি করবি তো জীবন ধ্বংস হৈয়া যাইব । ঠাডা পইড়া মরবি । ধ্বংস হোক । ঠাডা পড়ুক । নিজ হাতে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়কে যে দুরে পাঠায় তার জীবনে ধ্বংসের আর বাকি কি থাকে । বাড়ির পাশে পুকুর, পুকুরের অন্য পাশে রেলরাস্তা । সোজা গেলে বাসের রাস্তার সাথে ক্রসিং । বাসস্ট্যান্ড । শেষ দুপুরেই রওনা হৈলাম । চৈলা গেলাম যেদিকে দুইচোখ যায় । এক্কেবারে আন্দাজে যে তা আবার ঠিক না । ঢাকার বাসে উইঠা গেলাম । চান্দিনা যামু । মাহবুবের দ্যাশের বাড়ি । পাগড়ি বান্ধনের দিন অনেক কৈরা কৈছে যাইছ বন্ধু । মাধাইয়া বাস স্ট্যান্ডের নাইমা যে কাউরে জিগাইলেই দেখাইয়া দিতে পারব মন্তাজ চৌদরির বাড়ী । রাস্তা থাইকাই দেখা যায় ।

মাহবুবের পুরা পরিবার আমারে পাইয়া যেন হাতে চাঁদ পাইছে এমন খাতির যত্ন করলো । বেচারা ছৌদি চৈলা যাইব সামনের মাসে । দুএককথার পরেই কাইন্দা দিলেন মাহবুবের মা । ছ্যানছ্যান করে উঠে মাহবুব । কি খালি ফাগলের মত শুরু করলা । দেশ জুইড়া কত মানুষ যাইতাছে । রাইতে মাহবুবের কাছে যখন এইখানে থাকার এবং যেকোন একটা হুজুরীয় কাজ করার ইচ্ছার কথা খুইলা বল্লাম , মাহবুব গিয়া তার মারে কৈল । উনি যেন যারপরনাই খুশি হৈলেন । গেরামে তারাই মাতব্বর । কৈলেন মসজিদেতো ইমাম আছে । কোনো সমস্যা নাই , মোয়াজ্জিন হিসাবে তুমি থাকবা । থাকবা খাবা আমরার ঘরেই । মাহবুবের ছুড দুইটা বৈন আছে । সকাল বিকাল ওদের একটু কায়দা আমপারা পড়াবা ।

জীবন আমি যেরকম চাইছি সেইরকম কুনোদিনও ছিল না । শুধু এইবারেরটা ছাড়া । শেষ দুফরের গরম লোহার রেললাইন ধৈরা হাইটা আসার সময় আমি আসলে জীবনের ধ্বংস চাই নাই । চাইছি নির্বাসন । এমন কুনো জায়গায় যেইখানে কুলসুমার আক্ষেপগুলা শুনা যাইব না । যেখানে কেউ মুখের সামনে কুলসুমার নাম উচ্চারণ করবো না মাসে ছমাসে একবারও । মাহবুব কে বলি নাই কুলসুমার কথা । বেচারা আমারে বড় পেয়ার করলে মোন্তাজিরকে যেইভাবে নিজের জীবনে গল্পের ঝাঁপি খুইলা দিছিলাম সেই তুলনায় মাহবুবকে কিছুই বলি নাই । তাও আমর প্রতি টানের তার কুনো ঘাটতি দেখি নাই কুনোদিনই । এখন মনে হৈল হাতের কাছেই সেই নির্বাসন ।

অলস দিনগুলা যাইতে লাগল পাঙ্খার মত । সকালে দুএকটি ব্যাএছ্যাএ জাতীয় আরবি পাঠ আর সন্ধ্যার আধঘন্টাখানেক ঝিমানিরত মাহবুবের ছুড দুই বৈনরে ক খ ১ ২ ৩ এর বাইরে সারাটা দিন কামকাজ নাই । মাহবুব ব্যস্ত এবাড়ি সেবাড়ি দাওয়াতে । আমাকে টানাটানি করে । কিন্তু নির্বাসনে আমি কুনো আনন্দ মুহূর্ত চাইনা আরো অনেকদিন । কিছু মাস যাক । তারপর দেখা যাবে । মাহবুবরে আগাইয়া দিতে ঢাকাতেও যাই না । একসময় যখন উপরের সবগুলা ভাই কুনো না কুনো কারণে একবার দুইবার ঢাকা যাইত মাঝে মাঝে আক্ষেপ কৈরা বলতাম আমার জৈন্য ঢাকার এক পলিথিন মাটি নিয়া আসাতে । ঢাকায় গিয়া যখন ঢাকার মাটিতে পা দেয়া হৈল না তাইলে গেরামে বৈসাই দিই । তাও তো কৈতে পারমু ঢাকার মাটিতে পা দিছি । কিন্তু আইজ সেই ইচ্ছা নাই । ঢাকায় হাজার হাজার মাইয়া কাউরে না কাউরে দেইখা কুলসুমার পানিভার চোখের কথা মনে হৈয়া যাইতে পারে ।

সেইদিন সন্ধ্যায় মাহবুবের ছুড বৈন দুইটা কানতে কানতে কেলান্ত হৈয়া ঘুমাইয়া গ্যাছে আগেই । বেচারি মাহবুবের মার কুনো হুশ দিশ নাই । পড়ে আছেন ঘর আন্ধার করে । বৈঠকখানায় বৈসা আছি । হঠাৎ শুনলাম একটা মেয়েকন্ঠ বলছে হুজুর হাত ধুইয়া আসেন , ভাত খান । ঝাঁ করে একঝলক রক্ত বুকের মধ্যে পোঁচ মাইরা দিয়া গেল ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৫

আগের পর্বগুলার লিংক পোস্টের শেষে ।
---------------------------------------------------
আফনে কে ? দেখলাম না তো এতদিন । দেখার ইচ্ছা থাকলেই না দেখতেন । তরুণীর কন্ঠে হালকা রহস্যের সুর । আমার জীবনের মেয়েরা এমন রহস্য করা সপ্রতিভ নয় । হয় অতি মায়ায় নিশ্চুপ অথবা খালেদার মত পুরা খানকি । ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চুপ করে আছি । মেয়ে বলে বন্ধুর ভাইবোন কয়জন সেইটাও জানেন না কেমন বন্ধু হৈলেন । মাহবুবের এমন নিঃস্বার্থ টানের বিপরীতে ওরে নিয়া আমি তেমন আগ্রহ দেখাইনাই তাই একটু খারাপই লাগলো । যা বলার সে আগ বাড়িয়ে বলেছে , যা শুনার সে নিজে জিজ্ঞসাসা করেই শুনেছে । ও আচ্ছা আপনি তাইলে মাহবুবের বোন । বলে আমি হাত ধোয়ার জন্য বাইর হৈতাছি এমন সময় মেয়ে সাবান এগিয়ে দেল । চোখে চোখ পড়ায় আমি আঁৎকে উঠলাম । ধারণা ছিল এমন চোখ পৃথিবীতে এক জোড়াই আছে । গভীর রাতে মাঝে মাঝে রেললাইনে বইসা হাত মারতাম । চাঁদহীন রাইতের সেই কুচকুচে কালো অন্ধকারের চাইতেও কালো মায়াময় একজোড়া চোখ । বেশিক্ষণ তাকাইয়া থাকতে নাই ঐগুলার দিকে । হারায়া যাবার ভয় শতভাগ ।

এই একমাসে হয়ত জানা যাইত মাহবুবের কাছ থাইকা । ওর পরিবারের টুকটাক । কিন্তু বেচারা দাওয়াতে দাওয়াতে কাহিল হৈয়া ছিল । আর আমিও সবকিছু ভুইলা থাকার জন্য চারধারে ইউক্যালিপ্টাস গাছ লাগানো বড় বাইরের পুকুরের পাড়ে গিয়া বৈসা থাকতাম অলস সময়ের বেশিরভাগ । খাওয়া দাওয়া সব মাহবুবের ছুড বৈন দুইটাই নিয়া আসত বৈঠকখানায় । পিচ্চি দুইডা মারাত্নক শিক্ষকভক্ত । ভাত খাইতে দিয়া দাড়ায়া থাকত কখন কি লাগে সেগুলা সাপ্লাই করার জইন্য । চতুর্থ কারো সাহায্য এই বাড়ীতে কখনোই লাগে নাই এই একমাসে ।

এর মইধ্যে বাড়িতে চিঠি দিয়া আমার মোটামুটি সব অবস্থা জানাইছি । কারোরে জানানোর তেমন গরজ ছিল না । তয় মা বুড়ি আর কুলসুমার জন্য জানাইতে হৈল । কুলসুমারে আলাদা কৈরা জানানোর দরকার ছিল না । বাড়িতে খবর পাঠাইলে ও যে আমার ভাইগুলার আগে সেই খবর পাইব সেইটা নিশ্চিত ।

মাহবুব চইলা যাবার পর বাড়িটা কেমন যেন ঝিম মাইরা থাকে সারাদিন রাইত । আয়েশা এখন আর আগের মত ছায়ার মত নাই । পাইন্জম জামাতের উর্দু বই নিয়া মাঝে মইধ্যে সন্ধ্যাবেলা আসে । এইটার অর্থ কি ঐটার ব্যাখ্যা কি । বুঝাইয়া দিতে আমার অসুবিধা নাই । তয় পেরায়ই মনে হয় হাচাই কি বুঝে না নাকি খালি জিগানির লাইগা আসে । এমনিতে দেখি অনেক কিছু পারে । মাথা ভালা মেয়ের ।

এইরকম চলতেছিল ভালাই । হঠাৎ একদিন অনেক কিছু উল্টাপাল্টা লাইগা যায় । পিচ্চি দুইডা সন্ধ্যা না হৈতেই শুরু করে ঝিমানি । তাও কুনোরকমে ধইরা বাইন্ধা আধাঘন্টা চল্লিশ মিনিটের মত কোনরকমে রাখি । এইরকম শেষসময়ে দুইটা বই নিয়া হাজির হয় আয়েশা । পিচ্চি দুইডা এরই মইধ্যে টৈলা পড়ে প্রায় । আয়েশা আইসা বলে যা বিছনাত গিয়া ঘুমা । দুইডার কুনোদিকে খেয়াল না থাকলেই এই কথাডা যেমনেই হোক শুনে এবং টলতে টলতে চলে যায় । একটা আয়াতের অর্থ লেইখা দিতে বলে আয়েশা । আমি কই ঠিকাছে আমি কৈতাছি তুমি লেখ । না হুজুর, আফনে লিখা দেন । কলম বের করতাছি কয় এইটা দিয়া লেখেন এইটার কালি সুন্দর । কলম দিতে গিয়া আমার হাত ধইরা ফেলে । আমি টাশকি খায়া বোবা হৈয়া যাই । গরীবের মেয়ে কুলসুমার চোখে হাজার দীঘির মায়া থাকলেও হাত রুক্ষ পাত্থরভাঙা শ্রমিকের মত । খালেদার হাত ধরা হয় নাই কখনো । দুধই ধরা হৈছে খালি । এইরকম কোমল হাত জীবনে এই পরথম । পুরা শরীরে কারেন্ট খেইলা যায় আমার । ছাড় বৈলা ছিটকাইয়া বাইরে বাইর হৈয়া যাই আমি ।

বাইরে পুকুর পাড়ে জুনিপোকাদের ঝোপের পাশে বইসা আমি বারবার নিজের মনের ভিতরে জন্মানো কুকল্পনাগুলারে ধমকাই । জীবনে অনেক দুস বন্ধু ছিল । দরকারে কাউরে পাওয়া যায় নাই । মোন্তাজির ছিল । ফিলিস্তিনে মরতে চইলা গেল । এই মাহবুব যারে একসময় বিরক্তির মত মনে হৈত । সেই আমার সবচে প্রয়োজনের সময়ে প্রত্যাশার চাইতেও অনেক বড় আশ্রয় হৈছে । মাহবুবের মা । নিজের পুলার চাইতে কুনোরকমে কমতি করেন নাই । মাহবুব যখন চৈলা যাইব তখনো দুইজনের পাতে সমান জিনিস তুইলা দিছেন । পিচ্চিগুলারে সেইভাবে বইলা দিছেন । আমি নিজে শুইনা ফালাইছি কয়েকদিন ।এই পরিবারের উপর এত বড় নিমকহারামি আমি করতে পারমু না ।

সপ্তাহখানেক পরে আবার একই সময়ে আসে আয়েশা । পিচ্চিগুলারে চইলা যাবার পর যেই আমার সামনে বই খুলতাছে আমি সোফা থাইকা উইঠা বাইর হৈতে গেলাম । আমার হাত টাইনা ধৈরা ফেলল । আবার সেই কোমল হাতের ছোঁয়ার কথা ভাবতে সেকেন্ডখানেক থামলাম । তাতেই শরীর আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল । দুইহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে আয়শা বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা নাই বল্লেই চলে । মাহবুবের মা এখনো স্বাভাবিক হৈতে পারেন নাই । রাইত হৈকেই কানতে বসেন ঘটা কৈরা । কানতে কানতে প্রায়দিন ঘুমাইয়া পড়েন । সব দেইখাই আসছে মেয়ে । আর তাছাড়া প্রেমে পড়লে মেয়েরা আত্নঘাতী হৈতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনা শুইনা আসতাছি অনেক আগে থাইকাই । কুলসুমারেও তো দেখলাম ।

আইজ আয়েশার চোখে সেদিনের মত রহস্য নাই । বরং কি এক গভীর দুঃখ । আমাকে জড়াইয়া ধইয়া ঝরঝর কৈরা কাইন্দা দিল মেয়ে । আওয়াজ নাই । সাবধানী কিন্তু গভীর দুঃখি বিড়ালিনীর মত অঝোরে কেঁদে চলছে মেয়ে । কান্নার বেগ বাড়ে আর আমারে জড়াইয়া ধরা বাঁধন শক্ত হয় । বেকুবের মত দাঁড়িয়ে আছি । হাত দুইটা দুইপাশে ঝুলানো । নাকে অচিন দ্বীপের গন্ধ । মেয়ের সুগন্ধি চুল । অপরাধবোধ , হতভম্ভবোধ এতসবের মাঝখানেও ধোন শক্ত । আরেকটু জোরে ধরার পরই গেল পইড়া । ছিঃ আয়েশা । ইন্নালিল্লাহ বলে আমি ঝটকা মেরে মেয়ের দুর্বার বাঁধন ছিড়ে বেরিয়ে যাই ।

পালাতে হবে ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৬

প্রিয়তম আমার জানের জান,

কাল রাতের ঘটনার জন্য আমি খুবি দুঃখিত । নিজেরে বেঁধে রাখতে পারিনি । প্রিয়তম তুমি জাননা কত দুঃখ আমার মনে জমা হয়ে আছে । প্রেমে এত কষ্ট এতদিন শুধু শুনেছি এখন বুঝেছি । তোমাকে লজ্জায় ফেলার জন্য আমাকে ক্ষমা করো । আমি বুঝেছি তোমার মাল পড়ে গিয়েছিল । তাই তোমাকে আর জোর করে ধরে রাখিনি । লজ্জা পেয়োনা । আমি কিছু মনে করিনি ।

তুমি প্রথম যেদিন এলে সেদিন থেকে তোমাকে দেখি । আড়াল থেকে তোমার কথা শুনি। তোমার কথা, তোমার চলা সবকিছু আমাকে দিনদিন শুধু আরো পাগল করে দিয়েছে । পুকুরপাড়ে তুমি যখন বসে থাকতে শুধু তোমাকে দেখার জন্য অনেকদিন মাদরাছায় যাইনি । তোমার মনে কি যেন গোপন ব্যাথা । আমি সব শুনতে ছাই আমার জান । তোমার সব কষ্ট আমি দূর করে দিতে ছাই । তুমি শুধু পায়ের তলে ঠাঁই দিয়ো ।

আম্মা আব্বার কথা শুনলাম কয়েকদিন আগে । আব্বা আমার বিয়া দিয়ে দিতে ছান । কিন্তু আম্মা এখনো ভাইয়ার চলে যাবার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন নাই । তুমি চিন্তা করোনা । এখনো কমসে কম ছয় মাস সময় আছে । আমি সব করতে পারবো তোমার সাথে চিরদিন থাকার জন্য । বাড়ি-ঘর সব ছাড়তে পারব । তুমি শুধু ইশারা দিলেই হবে । তোমার সাথে হলে আমি ভাঙা ঘরেও থাকতে পারব । দিনে একবেলা খেলেও কোনো দুঃখ থাকবে না ।

প্রিয়তম আমি তোমাকে অপমান করাতে ছাই না । আব্বা তোমার সাথে আমাকে কিছুতেই বিয়ে দিবেন না । আব্বা আমাকে দূরে কোথাও বিয়ে দিতেই চান না । কিন্তু আমি তোমার সাথে সাতসমুদ্রের ওপারে হলেও যাতে রাজি ।

তুমি বাড়ী যাবে এক সপ্তাহের জন্য শোনার পর থেকেই আমার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে । আমি তোমাকে না দেখে এক সপ্তাহ কেন একটি দিনও যে থাকতে পারি না । আমার মাথার কসম, যত তাড়াতাড়ি পার চলে এস । যদি না আস আমি কিন্তু এন্ড্রিন খেয়ে ফেলব । আমাকে বাঁচাতে হৈলেও তাড়াতাড়ি চলে এসো ।

শরীরের যত্ন নিও । নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করো । আর এই অভাগিনীকে মনে করো । তোমার পথ চেয়ে বসে আছি ।

ইতি তোমার প্রেমের কাঙাল
মোসাম্মাৎ আয়েশা বানু ।

শনির আখড়ায় খালার বাসায় এসে লুঙির জন্য পলিঠনের থৈলাটা খুইলা দেখি ভিতরে এই চিঠি । কোন ফাঁকে ঢুকাইয়া দিল কে জানে । লইজ্জায় মনে হৈল মাটি ফাইটা যাক আমি ভিতরে ঢুকি । ভাবছিলাম মাল পইড়া যাবার ব্যাপারটা আয়েশা খেয়াল করে নাই । অথবা ব্যাপারটা সে বুঝেও না । কি শরমের কথা ।

এই টাইফের প্রেমের চিঠি জীবনে একটাই মাত্র পাইছিলাম । কুলসুমা যখন তার মনের মায়ার কথা খুইলা বলছিল । তারপর থাইকা কখনও চিঠির দরকার হয় নাই । সেই চিঠি পইড়া সাথে সাথে ছিঁড়া পানিতে ফালাইয়া দিছিলাম । ঘরে আট ভাই । নিজের বৈলা কিছু নাই । পান্জাবি লুঙি বিছনা সবই সবাই মিলা ব্যবহার করতে হৈত । বড় ভাইর হাতে পড়লে আমারতো খবর হৈতই কুলসুমার গায়েও কলঙ্কের কালি লাগত । জিনা নিয়া বড় ভাইর মিজাজ খুবই কড়া । অবশ্য কুনডা নিয়া যে না সেইটাও ভাইববার কথা ।


এখনতো নিজের একখান ঘর একখান বিছনা একখান টেবিল আছে । তাই ভাইবলাম চিটিটা রাইখা দিই । কিন্তু আইতে তো চাইছি পলাইয়া । আবার ঐখানে ফিরা যাবার মত সাহস পাইতাছি না । খালত ভাইডারে জিগাইতে হৈব । ঐডা ভালো পরামর্শ দিতে ফারে । বয়সে আমার ছুড হৈলেও পুলা বাল পাকনা । বুঝে বহুত ।

খালত ভাইর কাছে আমি খুইলা বলি সব কতা । কুলসুমা মোন্তাজির আয়েশা খালেদা বেবাকতের বেবাককিছু । মোন্তাজির এখন কৈ জানতে চাইলে মুখ ফসকাইয়া বৈলা ফেলি ফিলিস্তিনে মরতে গ্যাছে । বৈলাই মনে হয় কোরান ছুঁয়াইয়া শপথ নিছিলেন মোহতারাম ছাব ।শেষে ওরে কিরা কসম কাইটা স্বীকার করাই কারো কাছে কুনোদিনও এই কতা কারুরে যেন না কয়।

ভাই কয় ফিরা যাইতে মাধাইয়া । গিয়া আরো তিন চাইর মাস থাইকা তারপর গেরামে চৈলা যাইতে । তদ্দিনে বাপ বড় ভাইর রাগ কমব । আর আয়েশা যেহেতু কৈছেই আরো ছয় মাস সময় আছে তাইলে আয়েশাও কুনো বড় ঝামেলা করব না । কিন্তু বারবার খালি মানা করে খবরদার আন্জা আন্জি দুধ ধরাধরি যাতে কুনোরকমে না করি । এই মাইয়া পুরা মনপ্রাণ দিয়া নাকি আমারে ভালোবাসে । আরেকটু আগাইলেই মাইয়ার ফিরার পর থাকবো না । তখন একটা কেলেঙ্কারি ঘইটা যাইব । মাহবুবের পরিবাররে অন্তত এই ঝামেলায় ফালানো ঠিক হৈব না । নিমকহারামিরও একটা সীমা আছে ।

নফসের উপর একসময় মনে হৈত অনেক কনটোরোল আছে আমার । চাইর পাঁচদিন থাকতাম হাত না মাইরা । কিন্তু দিনদিন মনে হয় কমতাছে । খালত ভাইর আন্জাআন্জির কতা আমি হাইসাই উড়াইয়া দিই । আরে ধুর মিয়া , মাথা খারাপ মনে করছ নাকি আমার । কিন্তু মনে মনে খালি সেই নরম উষ্ণ শইল্যের ছোঁয়ার কথা , সেই কোমল হাতের কথা ভাসে আমার । নাকে অচিন দ্বীপের সুগন্ধ । শ্বাসকষ্টের মত মনে হৈতে থাকে ।

ফেনীর বাসে যখন উঠি তখনও মনের দোটানা কাটাইতে পারি নাই । খালত ভাইরে বলি লুকাল বাসে ভাড়া কম হৈব, তাই উঠছি । কুমিল্লার বাস সব ভাড়া বেশি । কিন্ত মনে আমার অন্য চিন্তা । পারমু না পারমু না আমি নফসের সাথে । বাড়িই ফিরা যামু ।মাধাইয়া ইস্টপিজ যখন পার হৈয়া যাইতে থাকে , বুকের মইধ্যে মনে হৈতে থাকে আমার বড় বড় টুকরা ধৈসা পড়তাছে । সুগন্ধি দ্বীপের ঘেরাণ এই জীবনে আর পামু না এইটা মনে হৈলেই সব খালি খালি লাগা শুরু করে । ময়নামতি নাইমা যাই উল্টাদিকের বাসে উঠব বৈলা । নাইমা আবার মনে হয় পারমু না পারমু না নফসের সাথে । এক ঘন্টা ময়নামতিতে ঘুরঘুর কৈরা আমি আবার ফেনীর বাসে উইঠা যাই ।

রেল ক্রসিং এ নাইমা বাড়ি পর্যন্ত পথটা খালি বুক ধুকধুক করতে থাকে । বাড়ির সামনের পুকুর পাড় থেকে দেখি আব্বা চেয়ারে বসা , দরজার সামনে ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৭

বুকের মইধ্যে হৃদপিন্ড আমার জোরে জোরে বাড়ি খাইতে থাকে । এক্কেবারে পরথমেই বাপের সামনে । হালার কফালের কি ফের । মাটির দিকে তাকাইয়া যেকোন মুহূর্তে দৌড়ানির প্রস্তুতি রাইখা আমি আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে আগাইতে থাকি । দরজার কাছে গিয়া দেখি আম্মাও আছেন ঐখানে । আব্বা কি যেন বলা শুরু করছিলেন । আম্মা হুহু করে কেঁদে দিলেন দেখে থাইমা গেলেন । শইল্যের কি অবস্থা দেখ । চামড়া পুইড়া কি অবস্থা দেখ । তোরা যদি এইসব করতে থাকস একদিন আমি ঘরদুয়ার ছাইড়া যেদিকে দুচোখ যায় চৈলা যামু । গলার মধ্যে আবেগ আমারও জমা হৈতে থাকে । সেইটা ভাইঙা পড়ার আগেই চিৎকার কৈরা ডাকি কিরে খোদেজা আছস নি । কান্দনের ভাবটারে দুর করার লাইগা । খোদেজা আমার ছুড বৈন ।

দুপুরে বড় ভাই জুহর থাইকা ফিরা আইতাছে দেইখা আমি পুকুরপাড়ে রেললাইনে গিয়া বসি । আম্মাজান বড় ভাইরে ডাইকা নেন । আধঘন্টাখানেক পরে আইসা বড় ভাইর সামনে পড়লে ভাই কিছু না বৈলা আসসালামু ওয়ালাইকুম বৈলা উইঠা দোকানের দিকে চইলা যান । বাড়ির সামনের পুকুরটার একটু পরেই দোকান ।

দুইদিন পরে দোকানে গিয়া দেখি ছ্যারাব্যারা অবস্থা । জিনিসপত্র নাই । যে কাস্টমার যেটাই চায় । আমার ছুডডার ছুডডা কয় নাই । মনে মনে ঠিক কৈরা ফালাই । কিছু একটা করতে হৈব । ভাইগো মত নিশ্চিন্ত হৈয়া বৈসা থাকলে আগামি বিশ বছরেও আমি নিজেতো দূরের কথা বড় ভাইরেও বিয়া করাইতে পারুম না ।

সপ্তাহখানেক একান্তে আল্লার কাছে তওবা আর নামায কালাম নিয়া পইড়া থাকি । আয়েশা কৈছিল এক সপ্তাহ পর ফিরা না গেলে এন্ড্রিন খাবে । মেয়েটার খবর জানতে পারলে ভালো হৈত । তবে কোনো উপায় নাই । চিঠি লেখার ইচ্ছা করতাছে না । ঠিকানাও জানি না ভালোমত । আয়েশার কথা মনে হলে আবার সেই অচিন দ্বীপের গন্ধের জন্য শ্বাসকষ্ট হওয়া শুরু করে ।

কোমর বাইন্ধা নাইমা যাই কিছুদিনের মধ্যেই , বাপের দোকানে প্রাণ ফিরাইয়া আনার জন্য । আব্বাকে না বৈলাই গেরামের মাদরাছার হুজুরের কাছ থাইকা ট্যাকা ধার নিই বিশ হাজার । দোকানে নতুন জিনিস উঠানো শুরু করি । আব্বা বাকি বিক্রীতে কাউরে কখনও না করেন নাই । গেরামেই অন্তত লাখখানেক ট্যাকার বাকী পইড়া আছে । কেউ দেয় না । দেয়ার গরজও নাই । আব্বা একবারের বেশি দুইবার কাউরে কখনও বলেন না বাকী শোধ করার জন্য । যে ধরণের লোকেরে বাকী দেয়া হৈছে ঐগুলারে দুইবার কেন হাজারবার বল্লেও ট্যাকা বাইর করতে পারব না ।

খালেদার বিয়া হৈয়া গ্যাছে গেরামেই । মাইঝা ভাইর দোস্তের সাথে । কিছুদিন আমার হুজুর ছিলেন গেরামের মাদরাছায় । তারপর ছৌদি চলে যান । চার বচ্ছর পরে ফিরেই সপ্তাহের মইধ্যে বিয়া । খালেদা এখন হুজুরের বউ । তার পর্দার অন্ত নাই । তবে আমাদের পরিবারের লুকজনের সাথে আলাদা । সেই ছুডকাল থাইকাই ফরিদ ভাইর বাড়ীতে আসা যাওয়া । উনার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে । মা অন্ধ । সামনে থাকলে বুঝেন সামনে কেউ আছে । কে কি করতেছে এইগুলা বুঝেন না । অপারেশন কৈরা লাভ নাই বৈলা দিছে ডাক্তার রা । উল্টা আরো ক্ষতি হৈতে পারে । ফরিদ ভাইর চাইরপাশে আতরের গন্ধ ভুরভুর করে । চোখে সুরমা লাগানো থাকে সারাদিন । দোকানে বা মসজিদে যেখানেই যান । দেখা হৈলেই মুখে একটা লাজুক হাসি । উনাদের বাড়িতে যাই মাঝে মইধ্যে । বাকীর ট্যাকা চাওয়া, আম্মারে ওদের খবরাখবর আইনা দেয়া এইসব কারণে । দিনে যতবারই যেসময়েই যাই দেখি ফরিদ ভাই গোসল করে আসছেন । খালেদার মাথায় ভিজা গামছা বান্ধা ।

দোকানের ট্যকার কুলকিনারা পাই না । সারা গেরামের সবাই হয় বন্ধু নাইলে আত্নীয় নাইলে পরিচিত । বাকী নিয়া পড়লাম সমস্যায় । এক্কেরেই যেগুলারা ছালবাকল নাই ঐগুলারে ফিরাইয়া দেয়া শুরু করলাম । ছুড ভাইডারে দোকানে বসাইয়া দিয়া দুফরে দুফরে শুরু করলাম এইবাড়ি সেইবাড়ি ঘুইরা বাকী ট্যাকা কালেকশনে । বিশ বাড়ীতে গেলে একবাড়িতে দেয় । তাও দুই আড়াইশর বেশি না । এইরকম কৈরা ক্যামনে কি চালামু । আরো উপায়অন্তর ভাইবা দেখতে হৈব । দোকানের অন্তত পুঁজিটা সবসময় না থাকলেতো দিনদিন পিছাইতে থাকমু । দাদার দোকান ছিল রেলক্রসিং এ । লুকের মুখে শুনি বিশাল আলিশান পাইকারি দোকান । সেইখান থেকে হোগা মাইরা মাইরা এই অবস্থা করছেন আব্বা । আমার ছুডকালেই দেখতাম দোকান ভর্তি জিনিস । সারাক্ষণ কাস্টমার লাইগাই আছে ।

গেরামের মাদরাছার দোস্ত রহিম্যা এক বুদ্ধি দিল । রহিম্যাগো বড় দোকান আছে রেলক্রসিং বাসস্ট্যান্ডে । মাদরাছা শ্যাষ করনের আগেই বাপ মারা যাওনে ঐটা নিয়া আছে । দিনদিন উন্নতিই করতাছে । কৈল গেরামের মইধ্যের দোকান যেহেতু কেরাসিন তেল নুন চিনি এইগুলাই বেশি চলে । ফেনী থাইকা আনতে গেলে দাম আর আননের খরচ মিলা যা পড়ে তাতে লাভ কম । আমাগো গেরামের দেড়দুই মাইল উত্তর-পুবেই বডার । ঐখানে হস্তায় পাওন যায় বেলাকের জিনিস । ফেনীর অর্ধেক দামে । এক ট্যকার কাঁচা পইসা দিলে আরো কম দামে দেয় । একদিন ওর সাথে সাইকেল নিয়া গিয়া একমণি একটা চিনির বস্তা নিয়া আইলাম । আমার সাথে পরিচয় করাইয়া দিল । বিডিআর বিএসএফের লগেও খাতির আছে পাট্টির । সমস্যা নাই । কেরাসিন নুন চিনি ফেনী থাইকা আনা বাদ দিলাম । দোকানে একটু একটু কৈরা বেলেন্স ফিরা আসা শুরু করলো । ফেনীর আড়ৎদার গাঁইগুই করে । তারে কৈলাম এইগুলা বেইচা লাভ নাই । তাই কমকম নিই আইজকাল । তাও মাঝে মইধ্যে ঐখান থাইকাও আনতে হয় । খরচ কম হৈলে হাজার হাজার ট্যাকার বাকিতো দিব না ।

মনের মইধ্যে খালি একটা খচখচ সবসময় লাইগা থাকত কুলসুমার লাইগা । দক্ষিণের পরের গেরাম জাহানপুরে শ্বশুর-বাড়িতে আছে । গত তিনমাস ধৈরা আমি গেরামে । একবারও আসে নাই বাপে বাড়ীতে । ওর খবর জানতে মন চায় । আমার কোনো সরাসরি আত্নীয় না । গিয়া দেইখাও আইতে পারি না । খুরশিদ পায়েরখোলা মাদরাছাতেই হুজুর হৈছে । আসে খালি বিষ্যুৎবার বিকালে । শুক্কুরবার সকালে চৈলা যায় । ঠিকমত কথাও হয় না সববারে ।

সামনে রুজা । খুরশিদ রে খোঁচাইতে হৈব ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৮

২৭ রুজার পর খুরশিদ এর মাদরাছা ছুটি হৈল । এক সপ্তার জৈন্য । গেরামে এসে সে আমার দোকানে বৈসা থাকে পরায় সারাদিন । অনেক কথা জমা । জীবনের ব্যস্ততায় ঠিকমত কথা বলছি দুইজন অনেকদিন পরে । আমার মন উশখুশ করে কুলসুমার খবর জানার লাইগ্যা । একথায় সেকথায় তারে জিগাইলাম কুলসুমার কি খবর , আছে কেমুন ।খুরশিদ নিজেও অতভাল জানে না । ও নিজেই থাকে দৌড়ের উপর । কৈল চল যাই ঈদের পরদিন । পরে সিনেমা দেখতে যামুন কাননে অথবা দুলালে ।

ঈদের পরদিন খুরশিদ আমি আর ওর ছুড বৈনটা মিলা গেলাম কুলসুমার শ্বশুর বাড়ি । কুলসুমার জামাই এক বাপের এক পুলা । বাপ মারা গেছে । ঘরে কেবল শ্বাশুড়ি । মাঝারি ধরণের গেরস্ত পরিবার । ধানের মওসুম লাইগাই আছে সারা বছর । তাছাড়া বাড়িতে এইকাজ সেইকাজ লাইগাই আছে । শ্বাশুড়ি বুড়া মানুষ । বিপদআপদের ব্যাপার স্যাপার আছে । বিয়ার দুইমাস পরে জামাই চৈলা গ্যাছে উমান । একা বাড়ীতে শ্বাশুড়িরে ফালাইয়া যাইতে পারে না । বউ-শ্বাশুড়ি দুইজন মিলা বাড়ী খালি কৈরাও যাইতে পারে না । তাই বাপের বাড়ীত যাওন আর হয়না । বুড়ী এমনিতে ঝামেলা করে না কিন্তু কোথাও ছাড়তে চায় না এক দিনের লাইগাও । একা বাড়ি খাঁ খাঁ করে ।

দুফরে খেয়েদেয়ে , বেইল পড়লে রওনা দিমু এই ঠিক কৈরা খুরশিদ আর ওর ছুড বৈন ঘুম দেয় । আমার মনের ভিতর কথার পাহাড় জমা । এদিক সেদিক একটু ঘুরাঘুরি কৈরা আমি বৈঠকখানায় গিয়া বসি । কুলসুমার জামাই মাসিক মদীনার নিয়মিত গ্রাহক মনে হয় । বৈঠকখানায় অনেকগুলা সাজানো । উল্টাইয়া পাল্টাইয়া দেখতাছি এমন সময় কুলসুমা এসে দরজায় দাঁড়ায় । আবার সেই মায়াময় চোখ । আমি সহ্য করতে পারমু না বৈলা তাকাই না । ভালো আছেন ? এই ছুট্ট একখান কথায় সারা জীবনের ভাগ্যের পুন্দানি যেন চুখের সামনে ভাইসা উঠে আমার । মাথা নিচা করে সোফায় বসে গলায় উঠে আসা কান্নার দমক সামলাচ্ছি । সামনে এসে কুলসুমা বলে মাথার চুলতো অর্ধেকও নাই, ঘাড়ের পিছে ময়লা , পাইন্জাবির উপরে দিয়া পিঠের হাড্ডি গুনা যায়। গোসল করেননা ঠিকমত, খাননা ঠিকমত । মরতে চান নাকি ? আমার লাইগাই বৈলা আমারেও মাইরেন না । আমি আর ধইরা রাখতে পারলাম না । সব এমন হৈল ক্যান বৈলা উইঠা কুলসুমারে আন্জা কৈরা ধরতে যাই । নীল দেয়া পাইন্জাবির উপর চোখের পানির দাগ । ঝট কৈরা কুলসুমা সৈরা দাঁড়ায় । তারপর দরজা দিয়া বাইরে । দরজার সামনে সিঁড়িতে দাঁড়াইয়া বলে , আমি অন্যের বউ । তারে ঠকাইতে পারব না ।

যেই মেয়ে শইল্যের সব অঙ্গ কাইট্যা দিয়া হৈলেও আমারে বাঁচাইতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবো না , সে পরপুরুষের সামান্য ছোঁয়া দিয়াও , নিজপুরুষরে ঠকাইতে চায় না । এই জিনিস কুলসুমারেই মানায় । আয়েশারেও হয়ত মানায় । জানি না । মনে মনে বলি আল্লা আমার ভাইগ্যের সবগুলা পুন্দানি ফুল কৈরা ঝরাও তুমি কুলসুমার জীবনে । আমারে আরও লাত্থিগুতা খাওয়াও । আপত্তি করব না । শুধু কুলসুমারে না । চোখ মুছতে মুছতে ভিতরের ঘরে চইলা যায় মেয়ে ।

বিকালে খুরশিদ এর পিচ্চি বৈনডারে বাড়িতে দিয়া আমি আর খুরশিদ ফেনী যাই সিনেমা দেখতে । কাননে হুমায়ুন আহমেদ এর কি জানি একটা ম্যান্দা মার্কা ছবি চলতাছে । দুলালে যাই মুনমুনের ছবি দেখতে । মাঝখানে দুইজনই আলাদা আলাদা কৈরা এস্তেন্জা ঘুইরা আসি ।

আব্বার দোকানরে বেলেন্সে আনতে যাইয়া শইল্যের উপর আসলেই অনেক খাটনি গেছে । কুলসুমার মত কৈরা কেউ বলে নাই বৈলা হয়ত এদ্দিন খেয়াল করি নাই । রাইতে ঘুমানোর আগে দোকান থাইকা একটা কাঁচা ডিম খালি একটু নুন দিয়া খাইয়া নেই সেদিন । কে জানি কৈছিল কাঁচা ডিমে ভিটামিন বেশি । সিদ্ধ করেল ডিমের ভিটামিনের বেশিরভাগই আগুনে নষ্ট হৈয়া যায় । আইজকা আবার সিনেমা হলে একবার ফিরা আইসা সন্ধ্যায় আরেকবার এস্তেন্জায় গেছি ।

মাসগুলা কাটতে থাকে নিরানন্দ । এইভাবে ধুঁকে ধুঁকে রক্ত ফানি কইরা আর কত টানমু এই দোকানরে । ১১ জনের ঘর । দোকানের যেই লাভ তাতে ঘরের খরচ চালাইতেই অবস্থা কাহিল । বড় ভাই ভোদাই । সাইঝা ভাই উড়নচন্ডী । আমার উপরের টা দরবেশ । মসজিদের কিছু লাগলে নিজের বেতনের ট্যাকাডা আগে বাড়াইয়া দেয় । একমাত্র মাইঝা ভাই কিছু কাজে লাগার মাত সাহাইয্য করে । উপায় ভাবতে থাকি আমি কয়েকদিন ।

উপায় একখান মোটামুটি পাই । তয় যেই ধকল , সেইটা সামলাইতে পারমু কিনা সেইটা নিয়া কয়েকদিন ভাবি । তারপর ঐটাই ফাইনাল কৈরা ফেলি । নয় মাস থাইকা ফরিদ ভাই আবার চৈলা গেলেন । থাকার কথা ছিল ছয় মাস । ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন ছুতানাতায় আরো তিনমাস থাইকা গেলেন । খালেদারে ফালাইয়া যাওনের যন্ত্রণা আমিও বিলক্ষণ বুঝি । যাওয়ার আগে ফরিদ ভাই একখান বুদ্ধি দিয়া গেছিলেন । রমজানের সিজনে বিভিন্ন মাদরাছা থাইকা মইধ্যপ্রাচ্যে লুক পাঠানো হয় । মাদরাছার ফান্ড কালেকশনের জৈন্য । যাওয়া আসা থাকা খাওয়ার খরচ বাদ দিয়া যেটা থাকবো তার ৪০ ভাগ নিজের । ৬০ ভাগ মাদরাছারে দিতে হৈব । যেনতেন মাদরাছা দিয়া অবশ্য হৈব না । মোটামুটি পরিচয় আছে এমন কোনো মাদরাছা হওন লাগবো । খুরশিদ কৈছে অর মাদরাছার থাইকা কাগজপত্তর ব্যবস্থা কৈরা দিতে পারব । তয় যাওয়া আসা থাকা খাওয়ার খরচ আগে থাইকা দিতে পারব না । ঐগুলা নিজে ব্যবস্থা কৈরা যাইতে হৈব ।পরে মোট কালেকশন থাইকা সেইগুলা আমরা কাইটা নিমু । লাখখানেক ট্যাকার কারবার ।

তয় আইজকাইল অনিশ্চয়তারে ডরাই না আমি । অতি লুভের কারণে আছাড় খাওনের সম্ভাবনা আছে । সেইটারেও ডর লাগে না । এমনিতে যেইভাবে আছি, আর কত খারাপ হৈব আর । খারাপ এখন আর গায়ে লাগে না । বড় ভাইরে পাঠাইমু বৈলা ঠিক কৈরা ফেলাই । দোকানে ঢুকার পর থাইকা আস্তে আস্তে আমিই এখন ঘরের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী । হাসন আসে যদিও এইরকম শব্দ একা একা মনে করলে । তারপরও কাউয়া কি পাখি না ? বড় ভাই এখন আমার কাছ থাইকা পরামর্শ নেয় মাঝে মইধ্যে । আব্বা তাবলীগ নিয়া আছেন । আমি দোকানে ঢুকাতে পাওয়ার চৈলা যাওয়া নিয়া উনার তেমন বিকার নাই । বরং অনেকটা খুশিই ।

বড় ভাই একটু গাঁইগুই নয় ছয় করেন । তারপর বুঝ মেনে যান । সমস্যা শেষতক লাখখানেক ট্যাকা জোগাড় করা নিয়া । নিজের সাহসে নিজেরই একটু আচাইর্য লাগে । হাতে ১০ ট্যাকার ১০ টা নুট নিয়া আমি এক লাখের পেলান কৈরা ফেলাই ।

গেরামের মাদরাছার মোহতারাম ছাবের কাছে যাইতে হৈব । ছাত্রথাকাকালে মাদরাছার ফান্ড নিয়া একটু ঘাটাঘাটি করনের অভিজ্ঞতা আছে ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-৯

মানুষের কাছে ট্যাকা চাওয়াতে , ধার বা সাহায্য যেটাই হোক, আমার জড়তা কাইটা গেছে সেই কুট্টিকালেই । কায়দা আমপারা শেষ করতে না করতেই যখন গেরামের মাদরাছায় প্রথম জমাতে ঢুইকা গেলাম, তার পর থেকে প্রতিটা ধানের সিজনেই হুজুররা পাঠাইয়া দিত ধানের কোরা নিয়া মাদরাছার জৈন্য ধান সাহায্য নিয়া আসতে । উপরের দিকের ছাত্ররা বাড়ি বাড়ি যাইত না তয় ওরা হিসাব রাখত কুনখান থাইকা কদ্দুর ধান আইত । কেউ কম আনতে পারলে বকা বাদ্যি করত ওরে, পরে আরো বেশি না আনলে খবর আছে শাসাইত বা নিজের বাড়ীতে কি ধান রাইখা আইছস কিনা জেরা করত । জেরা শাসানির মুখে নিজেও দুএকবার পড়ছিলাম । তখন মনে হইত হালারা তরা যদি এত বুঝস তাইলে তরা যাস না ক্যান , আমগোরে পাঠাইলি ক্যান । পরে অবশ্য উপরের জামাতে উঠার পর যখন নিজে খবরদারি করলাম তখন বুঝলাম ছুড পুলাপানরে কেন পাঠানো হয় । গেরামের বাড়ি থাইকা ধান সাহায্য দেয় সাধারণত বাড়ির মহিলারা । তাগো কাছে পুলাপান পাঠাইলে তারা মায়া করে বেশি । তাছাড়া পর্দারওতে একটা ব্যাপার আছে । পুলাপান যত অন্দরে যাইতে পারে , বাল উইঠা যাওয়া পুলাপান তো পারে না ততটা অন্দরে যাইতে ।

এই সাহায্য সুপারভাইজিং এর কাম করনের সময় থাইকা ছাত্র-শিক্ষক হৈলেও মোহতারাম ছাবের সাথে আমার একটা বন্ধুত্ব গইড়া উঠছে । মোহতারাম ছাবের দুই বউয়ের বিশাল সংসার । দুইডারই আবার পেট খালি থাকে কম । অবশ্য সবাই সেইডা জানে না । জানার মত ঘনিষ্টতা ছিল আমার । শীতের সিজনে অঞ্চল জুইড়া ওয়াজ মাহফিল হৈত । মওলানাগো ওয়াজ শুইনা দুযখের আগুনের ডরে আর বেহেশতের হুরগো বড় বড় দুধের লোভে পাব্লিক হাত খুইলা দান খয়রাত করে । ছাগলনাইয়া সোনাইমুড়ি পরশুরাম পাঁচগইচ্যা চিওড়া চোদ্দগ্রাম মিয়াবাজার গুনবতি মাঝে মইধ্যে কুমিল্লা পর্যন্ত পুলাপান নিয়া চৈলা যাইতাম মাহফিলে মাহফিলে মাদরাছার জন্য চাঁদা উঠাইতে । হিসাবের খাতায় লেখনের আগে অনেকবার মোহতারাম ছাব আইসা , তোর ভাবীর শইল খারাপ ফেনী নিতে হৈব ডাকতরের কাছে বা একটা নতুন ঘর উঠাইতাছি সব করছি টৈনটা আর কিনতে পারতাছি না বৈলা অল্পসল্প নিয়া যাইতেন । সেগুলা বাদ দিয়াই হিসাব লেখতাম । আমি নিজেও দারিদ্রের পোনমারা খাওয়া পাব্লিক । কখনো গাঁইগুই করি নাই দিতে । হাত খরচের ট্যাকা সিনেমা দেখনের ট্যাকা হুজুরের কাছ থাইকা বৈলাই নিতাম টুকটাক । তিনিও কখনও দুইকথা বলেন নাই ।

এই মাদরাছাটা দিনদিন কেমুন জানি পিছদিকে হাঁটতাছে । ছুডকালে যখন পরথম দ্বিতীয় জামাতে ছিলাম , সামনের উঠানটা গমগম করত সবসময় পুলাপাইনে । এক কেলাস শেষ হওনের পরে আরেক কেলাস শুরু হওনের আগ পর্যন্ত সময় দাড়িচা বোম্বাস্টিং খেলছি কত । সাদা পাইন্জাবি টুপি পড়া শতখানেক পুলাপানে পুরা উঠানডা জুইড়া একটা সুন্দর ল্যান্ডইসকেইপ বানাইত । বার্ষিক ওয়াজের দিনে কি ব্যস্ততা, খানাপিনা , তিলাওয়াতের প্রতিযোগিতাই না চলত । দিনদিন গেরামের মানুষ বেদ্বীন হৈতাছে । গেরামের প্রাইমারি ইশকুলডা অনেক পুরান । ইশকুলে পুলাপাইন ছিল না । অল্প যেকয়ডা আছিল শরমে শরমে যাইত মাদরাছার সামনে দিয়া রেলরাস্তা পার হৈয়া । যেগুলার বাড়ি মাদরাছার আশেপাশে হেইগুলা । ঐগুলারে কত টিটকারি করছি । মাদরাছায় মাইয়াগো ব্যবস্থা নাই বৈলা ইশকুলের পুলাপাইনের বেশিরভাগই আছিল মাইয়া । পুলাডিরে হের লাইগা মাইগ্যা কৈয়া খ্যাপাইতাম । মাইনষে এখন পুলা মাইয়া সবডিরেই ইশকুলে পাঠাইতাছে । দ্বীনের দিকে খেয়াল নাই ।

মাদরাছার দিন যহন আছিল, ওয়াজের দিনে বা ঈদে চান্দে পুলাপাইনে জায়গা দেওন যাইতাছে না বৈলা সাহাইয্য উঠানি হৈত । আমি থাকতেই নতুন একটা টৈনের ঘর বানানি হৈছিল বেশি পুলাপাইন জায়গা দেওনের লাইগা । তারপরও ফান্ডে টেকা আছিল অনেক । এখন নতুন ঘর উডানি দুরের কথা, যেই দুইডা আছে হেইগুলারও পুরাডা লাগে না । একটা দুইডা খালি থাকে । ফান্ডের ট্যাকা খরচের জায়গা কই । পাব্লিক সাহাইয্যও করে কম আইজকাইল ।

মোহতারাম ছাবরে খুইলা কৈ ঘটনা । যদিও উনার সেই আগের বিশহাজারও অহনও শোধ করি নাই , তারপরও তারে কৈ পুরা এক লাখই দিতে । এইডাতো আর বেশি দিনের লাইগা না । বড় ভাই ছোদি যাইব খালি তিনমাসে লাইগা । ফিরা আইলেই হগলেরডা বুঝাইয়া দেয়া হৈব । মোহতারাম ছাব অনকে কতার পর পন্চাইশ হাজার দিতে রাজী হন । আমি মাদরাছা থাইকা বাইর হওনের পর সময়তো আর কম হৈল না । হেরপর থাইকা বাড়ানি হয় নাই সেইডা ঠিকাছে , কিন্তু মাদরাছা চালাইতে ও তো খরচ লাগে । উন্নয়ন নাই হোক । তাছাড়া মোহতারাম ছাবের পুলাপাইনডিও তো বড়ই হৈতাছে ছুডতো হৈতাছে না । সব বুঝি বৈলা আমি রাজি হৈয়া যাই । কতা আর বাড়াই না ।

বাকি পনচাইশ হাজার যোগাইতে শুরু হয় ধর্ণা দেয়া । মামা খালাগো বাড়িতে বেড়াইতে গেলে এক কথা ট্যাকা চাইতে গেলে আরেক ব্যবহার । জেরার মুখে পড়তে হয় জায়গায় জায়গায় । খালি হাতে এত বড় কামে হাত দিলাম কিয়ের লাইগ্যা এইডা নিয়া শুনতে হয় ধমক । কিয়ের লাইগা দিছি সেডা কুলসুমা ছারা আর কেডা বুঝবো । তাই মিছা আত্নবিশ্বাসের মুখোশ পরন লাগে । এইধরণের ব্যাপার আমার কাছে পুরা নতুন হৈলেও বিভিন্ন জাগার উদাহরণ দিই । পন্চাইশ হাজার জোগানি যেদিন শেষ হয় তারপরদিন নতুন একজোড়া জুতা কিনতে ফেনী যাই ।

বড় ভাইরে শেষ পইর্যন্ত পাডাইতে পারলাম । মনের ভিতর অনিশ্চয়তার ঢিপঢিপ করলেও আমি হাসিখুশি ভাব দেখাই হগলরে । বড় ভাই যেইখানে নামায পড়াইত সেইখানে তিনমাসের জৈন্য আমিই ঢুকি । গেরামের মাইনষের একটা আলাদা চোখের চাহনি পাই অনেকদিন পর । হগলের না । বুড়া যেগুলি দিনের বেশিরভাগ সময় মসজিদে পইড়া থাকে তাগো কাছ থাইকা । আগ বাড়াইয়া সালাম দেয় । কি খবর ইমামছাব কয় । খারাপ লাগে না আমার ।

ঝামেলা একটু বাইধা যায় । বাড়ী বাড়ী লুকজনের শোয়ার ঘর বসার ঘরের চিপায় চাপায় গিয়া বাকীর ট্যাকা চাওনের কি হৈব এইটা নিয়া আমি পইড়া যাই ঝামেলায় । নতুন ভাবখান ধৈরা রাইখা ঐকাম এখন কেমনে চালাই । আবার এইকামে ঘরের আর কেউই যোগ্য না । উপরের তিনডার কুনোডারতো দেখাই নাই । ছুডডিরে লুকজন পাত্তাই দিব না । পাঠানি শুরু করলে হয়ত পাত্তা দিতে পারে । কিন্তু পেরেকটিস টাইম দেওনের মত সময় তো আমার দোকানে নাই । হিসাবের অবস্থা নড়বড়ে । তাই ঠিক করি আমারে দুইডা মুখোশ পরতে হৈব । ইমাম একডা , বাড়ি বাড়ি গিয়া এর বউ ওর বউর লগে হাসির কথাবার্থা কৈযা বাকীর ট্যাকা উসুল করার মানুষ আরেকডা । যাওনের টাইম নিয়া একটু এদিক সেদিক করন লাগবো । সববাড়ীতে সবদিন যাওন যাইব না ।

খালেদার শ্বশুর বাড়ীতে খালেদার আন্ধা শ্বাশুড়ী আর ও ছাড়া কেউ নাই । ইশকুল মাদরাছায় পড়ইন্যা পুলাপান যেদিন বাড়িত থাকে সেইদিন শুক্কুরবারে জুম্মার ঘন্টা দুই আগে খালেদার শ্বশুর বাড়ী যাই ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১০

রুজার দিনে লুকজনের ইবাদত বন্দেগিতে ভক্তি একটু বেশি । শুধু বুড়ারা না কিছু ছুড পুলাপাইনরেও দেখি এত আগেই পাইন্জাবি-টুপি পইড়া মসজিদের দিকে যাইতাছে । ভালাই লাগে দেখতে । যদিও আমি নিজে যাইতাছে বাকীর খাতা হাতে নিয়া ট্যাকা উসুলে । উসুল করার জিনিস আরো থাকে । তয় সেইডা নিয়া বেশী আশা করি না আইজকাল । আশা কইরা লাত্থি খাওনের চাইতে কাঠের পুতুলের মত নিজের কাম কৈরা যাওন ভালো । মন বৈলা কিছু থাইকলেই যত যন্ত্রণা । আর তাছাড়া খালেদা এখন হুজুরের বউ । তার পর্দার ডর আছে, দুযখের ডর আছে । সেদিনের সেই খালেদা হয়ত এখন নাই । অবশ্য ফরিদ ভাই চৈলা যাওনের পর যে কয়বার গেছি স্বাভাবিক ভাবেই তো কথা কৈল । হালকা রঙ তামাশাও করলো । পর্দার কাঠিন্য বারেবারে কমতাছে । তাই আশা ।

খালেদার বুড়া শ্বাশুড়ি লোকজনের আসা যাওয়া আন্দাজ করতে পারেন মনে হয় দরজা থেকে আসা আলোর বাড়া কমা দিয়া । আইজ শুইয়া ছিলেন চৌকিতে , সামনের ঘরে । রুজা রাইখা মনে হয় কাহিল । আমি ঢুকলাম বুঝেন নাই মনে হয় । কথা বলার পর বুঝলেন । হুজুরের ঘর । বাইরের ঘরই আন্ধার পর্দার লাইগা । ভিতরের ঘরে দিনেও রাইত । ফরিদ ভাই থাকার সময় একবার খালি ঢুকছিলাম । বাইরের ঘর থাইকাই চিক্কুর মারলাম । ভাবী ট্যাকাটুকা দিবেন নি কিছু । খালেদারেও ভাবী কৈতে হয় । দুইন্যার কি রঙ । ভিতরের ঘর থাইকা খালেদা হাতে দুই তিনখান একশ ট্যাকার নুট লৈয়া বাইর হয় । এই এক যন্ত্রণা দোকান করতে । বাকী পইড়া আছে দশ বার হাজার । বাইর হৈছে দুই তিনশ লৈয়া ।

খালেদার হিসাব বুঝাই জুরে জুরে । শ্বাশুড়ি পাশ ফিরা শুইছেন ঠিকাছে । ধ্যান্ধাতো আর হয়া যান নাই । তাছাড়া বুড়ির চোখ না থাকনে কান অনেক কড়া মনে হয় । হিসাব বুঝাইতে বুঝাইতে কোমরে একটু হাত রাখি । দেখি কিছু কয় না । আমার সাহস বাড়ে । ইচ্ছা কৈরা একটু রানের লগে শইল লাগাই । কিছু কয় না । আমার সাহস আরো বাড়ে । কথা কৈতে কৈতেই এইবার এক্কেরে দুধে হাত দিই । একটু ভ্রু কুচকায় খালেদা কিন্তু নড়েচড়ে না । হিসাবে গোলমাল লাগাইয়া ফালাই আমি । সময় লম্বা করার লাইগা না । মাথার ভিতরে এমনেই জট ধৈরা যায় । ব্লাউজের ভিতর দিয়া হাত ঢুকাইতে গেলে আবার সরাইয়া দেয় । দোটানায় পইড়া যাই । আবার উপরে দিয়া ধরলে দেখি কিছু কয় না । হিসাব বুঝানি শেষে জোরেই কই চাচিই গেলাম । খালেদা চৈলা যায় ভিতরের ঘরে ।

আইজ মনে হয় আমার কইলজা হাতির মত বড় হৈয়া গ্যাছে , জিহ্বা দশহাত লম্বা । চাচি পাশ ফিরাই শুইয়া আছে দেইখা আস্তে কৈরা ভিতরের ঘরে ঢুইকা যাই । খালেদা দেখি তেমন অবাক হয় নাই । ঠোঁটে চুমা দিই । বুলুতে দেখছিলাম । কিন্তু আওয়াজ করন যাইব না । বুড়ির কান খাড়া । বেলাউজের ভিতরে দিয়া হাত দিলেও খালেদা কিছু কয় না । আস্তে কৈরা খালেদারে নিয়া খাটে শুইয়া পড়ি । আস্তে করতে হয় বুড়ির মরার কানের জৈন্য । সারা শইল্যে আমার যে আগুন ইচ্ছা হয় ঝাপাইয়া পড়ি । খালেদা আমার ধনে হাত দেয় । সারা দুইন্যা মনে হয় ভাইঙা পড়তাছে আমার । মাথা ঝিমঝিম কৈরা উঠে । জীবনে এই পরথম কুনো মাইয়ামানুষের হাত পড়ল । মানে ল্যাংটাকালেরডা বাদ দিলে । মিনিটখানেক ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া থাকি । জ্ঞান ফিরা আইলে লুঙিডা খুইলা খালেদার শাড়ি উপরে তুলি । আন্ধার ঘরে কিচ্ছু দেখা যাইতাছে না । জায়গাই খুইজা পাইনা আমি । এদিক সেদিক কতক্ষণ গুতাইয়া জায়গা খুইজা পাইলাম । ঢুকানির সাথে সাথে পুরা শইল ভাইঙা আইল যেন । চোক্ষে সইরষাফুলের মত দেখতে লাগলাম । সাথে সাথেই গেল পইড়া । একটু জোরেই বৈলা ফেল্ল খালেদা , ধুর । শ্বাশুড়ি বাইরের ঘর থাইকা ডাকলেন । কিরে বউ কি হৈছে । খালেদা জবাব দিল একটা পইসা পইড়া গেছে খাটের তলে । ও বৈলা শ্বাশুড়ি চুপ কৈরা গেলেন । চুরের মত লুঙি পরি আমি । খালেদা ঠোঁটের কোনায় একটা বেঁকা হাসি দিল । আমার মর্দামির অহংকার গৌরব সব কাঁচের মত ভাইঙা আকাশ থাইকা শইল্যে পড়ল যেন । বুড়া লোমপড়া কুত্তার মত নিচের দিকে চাইয়া আমি ঘর থাইকা বাইর হৈয়া গেলাম ।চৌকাঠে খাইলাম বাড়ি । খালেদার শ্বাশুড়ি আবার ডাক দিয়া উঠলেন কেডারে বউ । পিছন থাইকা খালেদার জবাব শুনি । ঐ আশফাকগো কুত্তাডা । হেহ, ছু, ছু ।

আকাশ ভাইঙা মাথায় পড়লেও মনে অয় এত খারাপ লাগত না । আর কুনো বাড়িতে যাওনের মত মনের অবস্থা নাই । আল্লাহপাক কি শাস্তি দিল আমারে এইডা । আমি কি মাউরা , হিজড়া । জীবনে ভাগ্যের পুন্দানিতো কম খাইলাম না । এই কি বাকি আছিল খালি । লুকজনের বাড়ী বাড়ী গিয়া বাকীর ট্যাকা উসুল করি আমি । আল্লাহ কি আমার উপর বাকি থাকা পুন্দানি উসুল করেন ? জীবনের পাপের কথা ভাবি । মোন্তাজির আর আমি যেই কাম করছি, আল্লার আরশ কাইপা উঠে শুনছি সেই কামে । সেই পাপের ফল কি এইডা । সোজা দোকানে গিয়া বাকীর খাতাডা রাইখা রেললাইনে গিয়া বসি । জন্মের পর থাইকা দেইখা আইতাছি এই রেললাইন । এখনো বিরক্তি আসে নাই । এখনো মন খারাপ হৈলে সোজা অইন্য দুনিয়াত চৈলা যাওয়া রেললাইনডার দিকে তাকাইয়া থাকি । ইচ্ছা করতাছিল একডা টেরেন আসুক , উঠমু না । এই জীবন টাইন্যা রাইখা আর কিছু পাওনের আশা নাই । মনের মইধ্যে খালি খুঁজতে থাকি কি হৈল কি হৈল । জীবনের হিসটরি ঘাটি । কখনো কি বুঝছিলাম , কুনো ঘটনাই কি নাই যেইডা দেইখা বুঝা যাইত আমি মাউরা , আমি হিজরা । আয়েশার কথা মনে হয় । ঐ ঘটনাতে কি আমার বুঝন দরকার আছিল ? জবাব পাইনা । জীবনে বুলু দেখছি কত । কিন্তু শিখিতো নাই কিচ্ছু । হাত মারা শিখাইছিল খুরশিদ । খুরশিদ শিখছিল অর এক খালাত ভাইয়ের কাছ থাইকা ।

রেলরাস্তার পাশ দিয়া কত মানুষ হাইটা যায় । কত বেদ্বীন লুকজন । চ্যাংরা পুলাপাইন । জিন্সের প্যান্ট পইড়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাইটা যাইতাছে । আজ শুক্কুরবার দিন । হেইদিকে কুনো খেয়াল নাই । দেইখাই বুঝা যায় ফেনী যাইতাছে সিনেমা দেখনের লাইগা । রুজার দিন । অগো জীবনে ঘটাইতে পারে না আল্লাহ এই জিনিস ? আমার জীবনে কেন । ভাবি আর খালেদার বেঁকা হাসিডার কতা মনে হয় । দুইন্যাডা খালি খালি লাগা শুরু করে । নিজের জীবনরে একটা বালছাল মনে হওন শুরু করে । জুয়ান পুলা রুজার দিনে সিরকেট টানতে টানতে যাইতাছে । অর জীবনে হয়না ক্যান এইরকম কিছু । খালি আমার জীবনে ক্যান ? দুইডা দশবার বছরের মাইয়া হাইটা যায় রেলের পাশ দিয়া । হাসাহাসি করতে করতে । ওগো হাসিও আমার খালেদার হাসির মত লাগে । নাকি ওরা আমারে দেইখা হাসে ।

এক বুড়া ছালাম দেয় । সালামালাইকুম হুজুর । মসজিদে যাইবেন না ? আইজকা জুম্মাবার , খোতবা দেওল লাগবো না ? ভুইলাই গেছিলাম আমি হেই কথা । গোছল এখন করন যাইবো না । সকালে একবার করছি । আমি নতুন বিয়া করা লুক না । আমারে দিনে দুইবার গোসল করতে দেখলে পাব্লিক উল্টাপাল্টা মনে করব । পাব্লিকের মনের মইধ্যে খালি বিষ । খালি কুচিন্তা । উপরের দিকে তাকাইয়া একটা মেঘ দেইখা মনে হয় ঐটা খালেদার বেঁকা হাসি দেয়া মুখের মত । আবার খুতবার কথা ভুইলা যাই । আবার দুইন্যা খালি খালি লাগে । রেলরাস্তা কাঁপা শুরু করে তিরতির কইরা । টেরেন আইতাছে । মনে হয় বইসাই থাকি ।

অত সাহস হয় না । উইঠা মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকি । মনে মনে আইজকার খোতবার বিষয় নিয়া ভাবতে থাকি । কি কওন যায় । আরবীডাতো ঠিক করাই আছে সারাবচ্ছরেরডা । তার আগে বাংলা খোতবাতো দেওন লাগবো । কি কওন যায় আইজ ?

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১১

আমার নবি করিম সল্লেল্লাহু আলাইহিস সালাম, রাহমাতুল্লিল আলামিন যখন মিরাজে গিয়ে জাহান্নাম দেখলেন, তিনি কি দেখলেন ? দেখলেন, জাহান্নামে খালি মহিলা আর মহিলা । দয়ার নবী জিব্রাঈলকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে জিব্রাঈল জাহান্নামে এত মহিলা কেন ? জিব্রাঈল বল্লেন ইয়া রাহমাতুল্লিল আলামিন , নারীদের অধিকাংশই জাহান্নামের আগুনে পুড়বে কারণ তাদের তুষ্টি নাই । অনেক পেলেও তারা সন্তুষ্ট থাকে না । তারা স্বামীর কিংবা আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করে না ।

তো দেখেন ভাইসকল, আইজ আমাদের চাইরপাশে কি দেখতে পাই আমরা ? একটা সামান্য দুর্ঘটনাতেও আমাদের মেয়েরা আল্লাহপাকের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টি প্রকাশ কৈরা ফেলে । আল্লাহর কি বিচার ? আল্লাহ আমারে ক্যান এই ঝামেলায় ফালাইল ? এই জ্বাতীয় কথা তারা হামেশাই বৈলা ফেলে । অথচ তারা দেখেনা আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন তাদের কত নেয়ামতের উপরে রাখছেন । নেয়ামতের শোকর-গুজারি করে না । পুরুষ কত কষ্ট কৈরা মাথার ঘাম পায়ে ফেইলা শহরে বন্দরে খেতে খামারে কল-কারখানায় রক্ত ফানি কৈরা ট্যাকা কামাই করে । দিনশেষে ঘরে ফিরলে কি পায় ? পচা মাছ নিয়া আইছ ক্যান ? এইডা একটা শাড়ি হৈল ? এক ধোয়াতেই রঙ উইঠা যাইব । কত শত অভিযোগ । আরো কত অভিযোগ আছে ভাইসকল ভালোই জানেন , সেইগুলা এইখানে বলা যায় না ।

উম্মুল মুমেনিন , আমার নবির পরিবারবর্গ , খাতুনে জান্নাত ফাতেমা তুজ জোহরা , এরা ছিলেন আদর্শ নারী । দয়ার নবির ঘরে যখন খাবারও ছিল না তখনও তার কুনোদিন বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেন নাই । সবাই মিলা উপবাস করছেন, তাও আল্লাহপাকের উপরে কিংবা দয়ার নবির উপরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাই । আল্লাহপাকের হুকুমে দয়ার নবি বিবাহ করেছেন, কুনোদিন উনার কুনো বিবি দুইকথা বলেন নাই । অথচ আইজ দেখেন আমাদের সমাজে দুই সতীন ঠিকমত ঘর করতে পারে না । চুলাচুলি লাইগাই আছে । আর দেখেন এই বেশরিয়তি বেদ্বীন সরকার আইন করে দ্বিতীয় বিয়া করতে হৈলে নাকি প্রথম বউয়ের অনুমতি লাগবে । দেখেন কুরানের স্পষ্ট আইনের বিরুদ্ধে কি ধৃষ্টতা । এই বেদাতি আইনের বিরুদ্ধে ভাইসকল আমাদের জানমাল কুরবানি কৈরা লড়তে হৈব ।

খাতুনে জান্নাত ফাতেমা তুজ জাহরা যখন ইন্তেকাল করেন তখন তিনি প্রানপ্রিয় স্বামী হযরত আলী (রাঃ ) কে ডেকে বলেন : হে স্বামী জীবনে আমারে কোনো দ্বিতীয় পুরুষ দেখে নাই তুমি ছাড়া । আমার মরার পরেও যেন কেউ দেখতে না পারে । তাই আমারে কবর দিও রাত্রে । আমার কবরও যেন কেউ দেখতে চিনতে না পারে । কেউ যেন বুঝতে না পারে আমার কবর দেইখা আমি দৈর্ঘ্যে কতটুকু ছিলাম ।

ভাইসকল, আদর্শ নারী হৈল সেই নারী যে জীবনে দুইবার মাত্র ঘর থাইকা বাইর হয় । যেদিন সে বিবাহ কৈরা স্বামীর ঘরে যায় আর যেদিন তার লাশ তার স্বামীর ঘর থাইকা বাইরে নেয়া হয় । অথচ দেখেন আমাদের সমাজে , কিশোরি যুবতী মেয়েরা চুল ছাইরা ইশকুলে যাইতাছে । আমাদের ঈমানি রক্ত ঠান্ডা বরফ হৈয়া গেছে । তাই আমরা আজও এইসব সহ্য কৈরা যাইতাছি । ছয় বচ্ছর বয়সে নারীর উপর পর্দা ফরজ হৈয়া যায় । ইসলামি খেলাফত ইরানে কোন মেয়ের চুল ছারা দেখলে সেই চুলে আগুন ধরাইয়া দেয়া হয় । আইজকার বাংলাদেশে যদি একটা মাইয়ারে এই শাস্তি দেয়া হৈত , তাইলে এইসব বেশরিয়াতি কারবার কি থাকত ? কন ভাইসকল থাকত ? আওয়াজ দেন । আমাগো ঈমানি বল কি এত নীচে নাইমা গেছে ? অর্ধেক পৃথিবীর শাসন কইরা আসা মুছলমানগো রক্ত কি এতই ঠান্ডা হৈয়া গ্যাছে ?

ভাইসকল, নারীরা জন্ম থাইকাই বেঁকা । তাকো কথা বেঁকা, হাসি বেঁকা, চলনবলন বেঁকা, বুদ্ধি বেঁকা । আল্লাহপাক তাগোরে বানাইছেনই বেঁকা কৈরা । বাবা আদমের বুকের হাড় থাইকা মা হাওয়ারে তৈরী করেন আল্লাহ পাক । বুকের হাড় দেখেননা কিরকম বেঁকা । এই বেঁকা নারীদের সোজা করার দায়িত্ব দেয়া হৈছে পুরুষরে । আল্লাহপাক কোরানে প্রয়োজনে নারীদের মাইরধইর করারও অনুমতি দিছেন । মখলুকাত সম্পর্কে কি আল্লাহর চাইতে বেশী কেউ জানে ? আওয়াজ দেন ভাইসকল কেউ জানে ? অথচ দেখেন ইহুদি নাছারাগো দালাল এনজিওগুলা আইজ নারী নির্যাতনের ধূয়া তুইলা কোরানের বিরুদ্ধে চালাইতাছে সরকাররে । এই এনজিওগুলা একেকটা দুযখের কুন্ডলি । ঈমানের জোর দিয়া এইগুলারে ঠেকাইতে হৈব । ওরা কি আল্লাহপাকের থাইকা বেশি জানে ? ওরা কোরানের বিরুদ্ধে কথা কয় কুন সাহসে ?

আল্লাহপাক নারীর উপর খবরদারির দায়িত্ব ভাগ কৈরা দিছেন তিন ভাগে । বাল্যকালে বাপের , যৌবনে স্বামীর , আর বার্ধ্যকে পুত্রের । ভাইসকল নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকমত পালন না করলে কাইল হাশরের ময়দানে নারীরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে, আমারেতো বানাইছই বেঁকা কৈরা , যাদের উপর দায়িত্ব ছিলো আমারে সোজা করার তারাতো সেই দায়িত্ব পালন করে নাই । তাই আইজ আমারে যদি দোযখে দাও তাইলে আমার বাবা স্বামী পুলারেও আমার সাথে দুযখে দাও । ভাইসব কথায় যুক্তি আছে কিনা কন ?

আদর্শ নারী ছিলেন , হযরত আইয়ুব নবীর বিবি রহিমা (রাঃ ) । আপনার জানেন আইয়ুব নবীর জীবনের আঠারটি বছর আল্লাহপাক তার উপর কঠিন পরীক্ষা নাযিল করেন । নবির সারা অঙে পচন ধরে যায় কুষ্ঠ রোগে । আত্নীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশি এমনকি নিজ রক্তের ছেলেরাও তারে পরিত্যাগ কৈরা চইলা যায় । কিন্তু বিবি রহিমা যান নাই । নিজের সমস্ত শক্তি দিয়া নবির সেবা করে গেছেন । বেহেশতের সুস্বাদু ফল কি বিবি রহিমার জইন্য নাকি আমাদের অকৃতজ্ঞ জোলেখা, সখিনা, খালেদার জইন্য । তাই ভাইসব, নিজ নিজ অধীনস্ত নারীদের গইড়া তুলতে হৈব নিজ দায়িত্বে । কাঁচায় না বাঁকাইলে বাঁশ পাকায় করে ঠাসঠাস । সবচে বড় দায়িত্ব তাই পিতার উপর । ছুডকাল থাইকা দ্বীনি এলেম শিক্ষা দিতে হৈব নিজ কইন্যারে । পর্দার ছবক দিতে হৈব ২/৩ বছর বয়স থাইকাই । তাইলে পর্দা ফরজ হওনের আগেই অভ্যাস হৈয়া যাইব । এই বেদ্বীনি বেশরিয়তি ইশকুলে যাওন বন্ধ করতে হৈব । ইশকুলে দেখেন পুলা মাইয়া একলগে কেলাস করে । খোদা মাফ করুক , কত হাজারবার জিনা হৈতাছে সেখানে ভাইবা দেখেন । জিনা খালি শইল্যের লজ্ঝাস্থানের জিনাই না । চোখের জিনা, কানের জিনা, হাতের জিনা কতরকমের জিনা আছে । এই গোমরাহির শাস্তি আমাগো উপরেও পড়বো । আমরা যদি এই গোমরাহি প্রতিরোধ না করি ।

শেষের দিকে হঠাৎ আমার কুলসুমার কথা মনে আসে । তাই বলি : তয় ভাইসকল, নারী হৈল মায়ের জাতি । তাই নারীর অসম্মান যেন আমরা না করি । হাদিসে পাকে আসছে, এক সাহাবি নবি করিম সাঃ এর কাছে জানতে চাইলেন, হে নবী পাক আমার বাবা মা দুইজনেই জীবিত আছেন আমি কার হক আগে আদায় করব ? নবী বললেন তোমার মায়ের । সাহাবি বল্লেন এরপর কার ? নবী পাক আবার জবাব দিলেন তোমার মায়ের । এইভাবে তিনবারের পরে চতুর্থবারে গিয়া নবি পাক বল্লেন তোমার বাবার । তাই ভাইসকল , নারীদের শিক্ষা দিতে গিয়া আমরা যেন তাদের সম্মানের কথা ভুইলা না যাই ।

নামায শেষে বাইর হৈয়া মনে মনে ঠিক করি দুএকদিনের মইধ্যেই ফেনী যাইতে হৈব । ডাকতরের কাছে ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১২

ফেনীতে পরিচিত ডাকতার আছেন কয়েকজন । তাগো কাছে যাওন যাইব না । ঘুইরা ঘুইরা একটা অপরিচিত চর্ম যৌন ও সেক্স বিশেষজ্ঞর কাছে যাই । ডাক্তর পরথমেই বউ আর আমার বয়স জিগান । কই বউয়ের বয়স আঠার বচ্ছর । বউরে নিয়া আইলেন না কেন ? বউ পর্দা করে । পুরুষ ডাকতরের সামনে আনন যাইব না । আর এইসব বিষয় নিয়াতো আরো বেশি শরম পায় । ডাকতর জানতে চান বিয়ার পরথম থাইকাই কি এই অবস্থা নাকি ? সিগারেট খান নাকি ? নাউযুবিল্লাহ, সিগারেট খাওয়ার প্রশ্নই আসে না । ডাকতর বলেন প্রথম প্রথম এইরকম হৈতেই পারে । অত দুশ্চিন্তার কিছু নাই । আত্নবিশ্বাস রাখতে হৈব। ভাইঙা পড়লে অবস্থা আরো খারাপ হৈয়া যাইতে পারে । ওয়াইফরে নিয়া আইতে পারলে ভালো হৈত । সমস্যাডা মিটাইতে দুইজনেরই সাহায্য লাগব । একটা মহিলা ডাকতরের ঠিকানা দিয়া কন বউরে নিয়া ঐখানে যাইতে । ওষুধ দিলেন কিছু । রাইতে খাওনের পর খাইতে । তয় বারবার বৈলা দিলেন ওষুধের চাইতে বেশি দরকার হৈল ভালোমত বুঝাপড়া । দুইজনেরই ।

একটু স্বান্তনা পাই মনে । যেইরকম ভাবছিলাম সমস্যা অত কড়া না । তয় ঔষধ নিয়া পড়লাম ঝামেলায় । একা মানুষ ঔষধ খাইয়া আবার কি সমস্যায় পড়ি কে জানে । একটা খাইয়া দেখলাম পরদিন রাইতে । করলাম আকাম । তিনবার এস্তেন্জায় একবার রেললাইনে যাইয়াও দেখি অবস্থা ঠিক হয় না । রাইতে ঘুম হৈল না । পরদিন ঔষধগুলা পুকুরে ফালাইয়া দিলাম । নামডা লেইখা রাখলাম । লিবিডেক্স ২ ।

খালেদারে বুঝানির দরকার সমস্যাডা কুন জায়গায় । কিন্তু সাহসে কুলাইতেছিল না ঐদিকে যাওনের । কিছুদিন দোটানায় থাইকা একদিন বাকীর খাতা লৈয়া গেলাম । বাকী বুঝাইতে বুঝাইতে হাত একটু এদিক সেদিক করাতেই খালেদা হাতের উপরে বাথাপ্পর দিয়া হাত সরাইয়া দিল । পাত্তাই পাইলাম না । একান্তে সময়ওতো পাওন যাইব না । কেমনে বুঝাই । ওর মিজাজের যে অবস্থা ঐদিনের মত করনের কুনো সাহসই পাইলাম না । বিফল হৈয়া ফিরৎ আইতে হৈল ।

রুজার ঈদ কুরবানির ঈদ দুইডা পার হৈয়া গেল । খান ছাবের বাড়ীতে টেলিফুন কৈরা বড় ভাই খবর দিলেন সামনের সপ্তাতে আইতাছেন । বাড়ীতে একটা খুশি খুশি ভাব । বড় ভাইরে এয়ারপোর্ট থাইকা আননের লাইগা ঢাকা যাইতে হৈব । যাওনের সময় মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড পরা হওনের সময় মনডা হুহু কৈরা উঠল । আয়েশার কি হৈল জানিনা । জানতে মন চায় । কিন্তু সাহসে কুলায় না । খারাপ কিছু শুনার আশংকা আছে আবার কাউরে কিছু না বৈলা পলাইয়া আসনের শরমও আছে । এই মুখ কেমনে দেখামু মাহবুবের মায়াবতী আম্মার সামনে । ঘটনা সবাই জাইনাও যাইতে পারে । তাইলে পড়ুম আরেক সমস্যায় ।

বড় ভাইরে চিননই যায় না । মোডা হৈয়া গ্যাছে প্রায় দেড়গুন । ধবধবা সাদা লম্বা কুর্টা মাথায় লাল চেকের চাদর । তার উপরে আবার কালা একটা রিং এর মত । পুরা নবীর দেশের মাইনষের মত লাগে । আহা কি নুরানি চেহারা । আল্লাহপাকের কি রহমত ঐ দেশডার উপর । ভাইরে নিয়া গেরামে ফিরা যাওনের সময় মাধাইয়া করস করনের সময় আবার খারাপ লাগে । ভাই আসাতে ভালও লাগে । জীবনে সুখ দুঃক দুইডাই আছে ভালোমত বুঝি । কিন্তু মনের গভীরের ক্ষত কেন শুকায় না বুঝি না । সারাক্ষণ একটা খচখচ নিয়াই মনে হয় বাঁচতে হয় । খচখচ নাই মনের কোনার এইরকম মানুষ হয়ত নাই দুনিয়ায় ।

বাড়ীতে চান্দের হাট চলে সপ্তাহখানেক । বড় ভাইর বন্ধুরা আসেন গেরামের, গেরামের বাইরের । সাথে দেয়া জিনিস নিয়া বিভিন্ন জায়গায় যাই আমি । টর্চলাইট, ক্যামেরা, সুনো পাউডার শ্যাম্পু , কম্বল এইগুলা নিয়া ছাগলনাইয়া চৌদ্দগেরাম এমনকি নোয়াখালি পইর্যন্ত যাইতে হয় । ভালোই লাগে । যে বাড়ীতেই যাই আদর সমাদর করে । খবর বার্তা জিগায় নিজ নিজ আপনজনের ।

সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় ছুড ভাইবোনডি আমি আম্মা মিলা বড় ভাইরে নিয়া গোলা হৈয়া বৈসা নবীর দেশের কাহিনী শুনি । আহা কি বিস্তীর্ণ দেশ । শতশত মাইল মরুভুমি । তার মইধ্যে একেকটা পাক পবিত্র শহর । পাথরের ঘরবাড়ি । একেক খাজুর আপেলের সমান । বাংলাদেশে আসে যেইগুলা সেইগুলা চিটাগুলা যেগুলা নিচে ঝইরা পইড়া থাকে । নবির দেশের চিটাগুলাই যদি আমাগো কাছে এত মজা লাগে তাইলে আসলগুলা না জানি কত মজা । আর লুকজনের কি দরাজ দিল । মাদরাছার জৈন্য চাঁদা চাইলেই ৫০/৬০ রিয়াল বাইর কৈরা দেয় । বাংলাদেশি ট্যাকায় হাজারের উপরে । রুজার একমাস বড় ভাইর নিজে ইফতার করতে হয় নাই । মসজিদে মসজিদে কত ইফতারি । সেহেরীর খাবারও পাঠাইয়া দেন শেখরা । খাওনের লুক নাই । শেখেরা সব নিজেগো বাসায় ইফতারি করেন । মিছকিনদের লগে বৈসা উনারা খাইতে চান না । আহা কত সম্পদ উনাগো । কত বাহারি খাওনদাওন । মিছকিন গো লগে বৈসা ওদের ভাগে কম দিতে চান না । কি দরাজ দিল ।

আর নবির দেশে মাডির কি গুন । বড় ভাইর কাহিনীগুলা স্বপ্নের মত লাগে । ফল ফলাদির জৈন্য গাছ লাগাইয়া অপেক্ষা করতে হয় না । একই ক্ষেতে একদিক দিয়া চারা লাগানো হৈতাছে আরেক দিয়া ফল পাইড়া নিয়া যাইতাছে কামলারা । আল্লাহপাক বাবা আদমরে যখন দুনিয়ায় পাঠান বাবা আদম লাঙল নিয়া মাঠে গেলে মাটি তারে কয়, আপনিতো আমারা যৌবনে আসেন নাই । যৌবনে যদি আসতেন এখনই ফসল নিয়া যাইতে পারতেন । এখনতো আমার বৃদ্ধকাল । বীজ ছড়াইয়া একটু ঘুইরা আসেন , ফসল নিয়া যাইয়েন । সেই মোজেজার দেশ আরব । আল্লাহপাকের খাস নেয়ামতের দেশ । সেইদেশের মাইনষের ঈমান মজবুত হৈব না ত কি আমাগো মত বেদ্বীন দেশের মাইনষের ঈমান মজবুত হৈব ?

এর মধ্যে আব্বাজান আবার একটা প্যাঁচ লাগাইয়া বসেন । বড় ভাইরে নিয়া একদিন নারানকরা মাদরাছার এক হুজুরের বাড়িতে যান । সন্ধ্যায় দেখি মিষ্টি নিয়া আইছেন । কেম্নে কি কিছুই বুঝলাম না । বড় ভাইরে বিয়া পড়াইয়া ফালানো হৈছে । আমি জানি না । আমারে একটু জানানোরও প্রয়োজন দেখলেন না আব্বা ? মতামত না নেন ঠিকাছে তাই বৈলা জানানোও হৈব না ? আম্মারে গিয়া জিগাইলাম । আম্মা জানেন । কিন্তু স্বামীর হুকুম তিনি অমান্য করতে পারেন না । স্বামীর কড়া হুকুম ছিল আর কাউরে যেন জানানো না হয় কাম হৈয়া যাওয়ার আগ পইর্যন্ত । ঘরে এখন আমার একটু পাওয়ার আছে । আব্বারে গিয়া জিগাইলাম । আব্বা পাত্তাই দিলেন না । যা করছি তোমাগো ভালোর লাইগাই করছি । দ্বীনি পথের মাইয়া পাইছ । শুকুর আলহামদুলিল্লাহ কৈরা থাক । মাইয়ার বাপ খালি তাবলীগ করে দেইখা । নাইলে সেই বংশে যাওয়ার সাধ্য আমাগো ছিল না ।

মিজাজটা খিঁচড়াইয়া গেল । এত করলাম সংসারের জৈন্য । আর এত বড় একটা কাজে আমার মতামত নেয়ার দরকার মনে করল না কেউ ? অপমান হজম কৈরা ঠিক করি । বন্ধুবান্ধব আত্নীয়গো কাছে মুখ দেখোনোর লাইগা হৈলেও একটা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হৈব । আব্বা নিজের ক্ষেমতা দেখাইছে । আমি আমারডা দেখামু ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৩

বড় ভাই বাড়ীতে আসেন তিনদিন পর । মুখে লাজুক হাসি । দোকানে এলে আমি জিগাই , ভাইয়া কামডা কি ঠিক হৈল ? বড়ভাই বলেন ঠিক বেঠিক তুই আমি বিচার করার কে ? আল্লাহপাক তকদিরে যা লেইখা রাখছেন তাই হৈব । যা হৈতাছে সেডা নিয়াই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ বৈলা থাক । কথাডা মন থাইকা আমি মাইনা নিতে পারতাছি না এখনো । সব আল্লার ইচ্ছার উপরেই হৈলে তাইলে আমি এত পরিশ্রম করি ক্যান ? আমি এত রক্ত ফানি করি ক্যান ? তয় বড় ভাইর মিজাজ দেইখা একটু ভালাই লাগে । আগে হৈলে ধমক দিয়া কৈতেন কথাগুলা । এখন মিনমিন কৈরা কন । রাগ উত্তাপ নাই তেমন একটা । ভালোই লাগে । একদিক দিয়া মনে হয় খুবেকটা খারাপও হয় নাই । দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরছেন বেচারা । বড় ভাই আর ছুড মামার জন্ম কয়েকদিন পরপর । ছুড মামার দুই পুলা । বড়ডা কিলাস টুতে পড়ে । সময় নষ্ট না কৈরা হয়ত ভালোই হৈছে ।

বিয়ার আয়োজনে খরচের বাহার দেখে আমার একটু খারাপই লাগে । তয় বড় ভাই দরাজ দিলে দিতে থাকেন বৈলা নিজেরে বুঝাইয়া নিই । আত্নীয় বন্ধুবান্ধবের বাড়ী বাড়ী গিয়া বিয়ার দাওয়াত দিয়া আসি । ফেনী থাইকা চাইল ডাইল মসলাপাতি কিনা আনি । একটা গরুও কিনা ফালাই গেরাম থাইকা । আমার জীবনে দেখা আমাগো বাড়ীতে এইটা প্রথম উৎসব । শুনতে পাই এর আগেরডা হৈছিল বড় ভাইর মুসলমানির সময় । তারপর থাইকা উৎসব আয়োজনের মুরোদ আমাগো পরিবারে ছিল না । এইবারে তাই আত্নীয়রা আসতে থাকেন সবাই । অনুষ্ঠানের দুইদিন আগেই বাড়ী ভরে যায় লুকজনে । খালাত মামাত ফুফাত ভাইবোনেরা আসে । দোকান বন্ধ কৈরা দিয়া আমি আড্ডা মারি ওগো লগে । রাইতে শোয়ার জায়গা নাই কারো । মামি খালারা কুনোরকমে চাপাচাপি কৈরা শুইলেও আমাগো পুলাপানগো শুয়ার কুনো জায়গা নাই । চান্দের আলোতে আমরা উঠানে ডেকোরেটর এর চেয়ারে বৈসা আড্ডা দিই । এক দুস্তর বাড়ি থাইকা একটা টেপ নিয়া আইসা হিন্দী বাংলা গান ছাড়ি । আব্বা ঘুম থাইকা উইঠা শুরু করেন বকাবকি । এইসব বেশরিয়তি বেদাতি কাজকারবার তিনি সহ্য করবেন না । আমার একটু চ্যাত আগে থাইকাই ছিল । আমিও নাছোড়বান্দা হৈয়া যাই । আব্বা কাঁথা-বালিশ নিয়া মসজিদে চৈলা যাইতে চান । এইসব বন্ধ না হৈলে তিনি বিয়াতে নাই । আম্মা বকাবকি করেন আমারে , আব্বারেও বুঝানের চেষ্টা করেন । ওরা পুলাপান মানুষ শহর বন্দরে থাকে ওগো লগে এত খুঁটিনাটি টোকাইলেতো চলবো না । বিয়াতে পুলাপাইন একটু আনন্দ করবো । একটু চুপ কৈরা থাকেন না । বুঝানো যায়না আব্বারে । আমিও কুনো ছাড় দিই না । খালাতো মামাতো ভাইগো কথায়ও না । একটু পাওয়ার অনুভব করি মনে । আব্বা এখন নিজেই চৈলা যান বাইরে । আগে হৈলে আমারে বাইর কৈরা দিতেন ঘাড় ধাক্কা দিয়া । পরদিন ফজরের সময় অবশ্য আমার যাইতেই হয় । মসজিদে গিয়া আব্বার কাছে মাফ চাইয়া বুঝাইয়া নিয়া আসি তারে । আম্মা ফুফুগো যন্ত্র‌ণায় পারলাম না জিদ ধৈরা রাখতে । তবে পুরাপুরি যে কিছু করতে পারি নাই তাও না । অন্তত আমার অবস্থানতো বুঝানো গেছে তারে । আমিও যে ফালাইয়া দেয়ার মত প্রতিপক্ষ না তাতো বুঝছে লুকে ।

মামাতো বৈন লাকি শহরে ইশকুলে পড়ে । মেট্রিক পরীক্ষা দিছে এইবছর । রেজাল্ট এখনো বাইর হয় নাই । আমি যেইকথাই কৈ লাকি হাসতে হাসতে লুটাইয়া পড়ে । আমার ভাল্লাগে দেখতে । আমিও ইচ্ছা কৈরা হাসির কথা বানাইয়া বানাইয়া কই । সোজা কথারে বেঁকা কৈরা কৌতুক কৈরা কই । বিয়ার আগেরদিন রাইতে আমার মনে একটু কুচিন্তা আসে । কিন্তু সাহস হয় না । শহরের মাইয়া । শেষে কুন বিপদে ফালায় । রাইতের দুইটা তিনটার দিকে চাইর পাঁচ মামাত খালাত ভাইবোন মিলা রেললাইনে যাই হাওয়া খাইতে । চান্দের আলোতে রেললাইনডারে আরো সুন্দর লাগে । আমার মনে কুচিন্তা ঢুইকা যাওনে অত মনোযোগ থাকে না চাইরপাশের সুন্দর দৃশ্যের দিকে । বন্ধুবান্ধবগো কাছে বিয়ার রাইতের অনেক ডেয়ারিং আকামের কাহিনী শুনছি । কিন্তু আমার খালি ডর লাগে । কথায় বার্তায় আমি লাকির কাছে ঘেঁষতে চাই । খেয়াল করে কি করে না বুঝি না । লাকি খালি হাসতে হাসতে লুটাইয়া পড়ে । হঠাৎ আমার খালেদার কথা মনে হয় । জীবনে ঐ হাসি আরেকবার দেখলে আমি মইরাই যামু । দরকার নাই আমার ইচ্ছা কৈরা লাত্থি খাওনের । ডাকতরের ঔষধ ফালাইয়া দিছি । আর তাছাড়াও গেরামের মাইয়াগোরে নাহয় টুকটাক বুঝি । শহরের মাইয়ারা আমার কাছে পুরা নতুন । হয়ত হাসাহাসি করতাছে ঠিকই কিন্তু পরে এমন কিছু কৈরা বইব আমার গলায় দড়ি দেওন ছাড়া কুনো উপায় থাকবো না । খালেদার বেঁকা হাসির কতা মনে করতে করতে তাই আমি দইমা যাই । লাকি বারবার জিগায় চুপ মাইরা গেলেন ক্যান ভাইয়া ? আমি মজার কথা কওনের চেষ্টা করি । পারি না । কিছুক্ষণ পর আবার চুপ মাইরা যাই ।

বিয়ার পর বাড়ীডা খালি হৈয়া যায় হঠাৎ কৈরাই । একই দিনে মামা খালারা সব চৈলা যান । কান্দন চৈলা আসে আমার । কয়েকদিনে অনেক মজা করছি । একডা মায়া পইড়া গ্যাছে সবার উপরে । এত বড় হৈয়াও তাই কানতে শরম করি না । লাকি বারবার কৈরা বৈলা যায় , আমাগো বাসায় কিন্তু যাইয়েন । আইচ্ছা যামু জবাব দিই । কুচিন্তা থাকেনা মনে । নিজের উপর একটু ভালো লাগে । নফসের উপর মায়ার জয় হৈছে । কুনোরকম অন্য উদ্দেশ্য ছাড়াই লাকির চৈলা যাওয়াতে খারাপ লাগে আমার । খালাতো ভাইবোনডির চৈলা যাওয়াতে খারাপ লাগে । আম্মা স্বান্তনা দেন আমারে ।

নতুন ভাবীর পর্দার বহরের কারণে তার চেহারাই দেখি আমি দুই সপ্তাহ পরে । আমাগো অনেক লুকের ঘর । অনেকডি ভাইবোন । পর্দা করতে গেলে সারাদিন ঘরের মইধ্যে বুরখা পইড়া বৈসা থাকতে হৈব । আম্মার বয়সতো কম না । তাই ঘোমটা খুইলা ঘরের কাজে হাত লাগান ভাবী কয়েক দিনের মইধ্যেই । ফর্সা একটা রোগাপাতলা মেয়ে । বাইশ তেইশের মত বয়স । আমারেও তাই ভাইয়া বৈলা ডাকেন । কিন্তু দুশ্চিন্তা লাগে আমার । ভাবীরে সুস্থ্য মনে হয় না । কিছু একটা রোগ আছে মনে হয় । ভাবীর পরিবার নিয়া তেমন বেশি কিছু জানি না । আব্বা একাই সবকিছু ঠিক করছেন । বিয়ার অনুষ্ঠানের দিনে একবার মাত্র গেছি ঐ বাড়ি । এক্কেবারে বিলইন্যা বডারের কাছে । ছাগলনাইয়া থাইকাও পরায় একঘন্টার পথ । কেমনে জানমু কি অবস্থা । খোঁজ নিতে নিতে খবর পাই । ভাবীর কলমা পড়ানো হৈছে যে বাড়ীতে সেইটা উনার ফুফুর বাড়ী । খোঁজ নিয়া যা জানি তাতে মিজাজ আমার তিরিক্ষি হৈয়া যায় । এই মেয়ের বিয়া হৈছিল আরেকবার । তিনমাস ঘরও করছে । রাগে ইচ্ছা করে মাথার চুল টাইনা ছিঁড়ি । আব্বার কাছে কৈলে সেই একই জবাব । আল্লাহর শোকর কর । আমি এখনো মৈরা যাই নাই । যদ্দিন আমি বাঁইচা আছি আমার কথার উপরে কথা কবি না । শোকর আলহামদুলিল্লাহ বৈলা পইড়া থাক । বড় ভাইর কাছে বৈলাও কুনো গুরুত্ব পাই না । আল্লাহপাক যা করেন ভালোর জন্য করেন । আল্লাহ নিশ্চয়ই এর মইধ্যে কুনো খায়ের লুকাইয়া রাখছেন । সেইটা নিয়া প্রশ্ন করা মাখলুকাতের কাম না ।

বিয়ার ঝামেলায় ট্যাকা পইসার হিসাবের কথা ভুইলাই গেছিলাম । য্যামনে খরচ করছি এখনতো হিসাব মিলাইতে ঝামেলা হৈয়া যাইব । তয় অত দুশ্চিন্তা লাগে না আমার এইটা নিয়া । ছুডকালে বাজারে থাইকা আইসা আম্মার কাছে হিসাব দিছি কত ।

আলু কিনছি দশ ট্যাকার, আলুওয়ালারে দিছি দশ ট্যাকা । এই গেল দশ দশ বিশ ট্যাকা ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৪

বড় ভাইজানের বিয়ার খরচ টরচ, টুকটাক বাড়ীর জন্য কেনাকাটা এইসবকিছুই যাওয়া আসা এবং থাকা খাওয়ার খরচের মইধ্যে ঢুকাইয়া দিয়া ফাইনাল হিসাব কৈরা দেখি মাদরাছার জন্য ফান্ড থাকাতো দুরের কথা উল্টা আমাগোই লোকসান হৈছে বৈলা দেখাইতে হয় । কিন্তু এইটাতে সমস্যা আছে । এক মাঘেতে তো শীত যাইব না । সামনের বচ্ছরের কথাও ভাবন লাগে । মামা খালাদের কাছ থেকে ধার করা ট্যাকার হিসাব অবশ্য ঢুকাইয়া দিছি । সেটা সৎভাবেই যাওয়া আসার খরচের মইধ্যে পড়ে । মাদরাছাকে একটা ফান্ড দিতেই হৈব । ভাবনাচিন্তা কৈরা শেষে মোহতারাম ছাবের ট্যাকাডাই মাদরাছারে দিমু বৈলা ঠিক করি । মোহতারাম ছাবরে আগের বিশ হাজার ট্যাকা শোধ কৈরা দিই । এখনকার ট্যাকা পরে দিমু বৈলা কুনোরকেম মানানো যায় । সেই পন্চাইশ হাজার খুরশিদের মাদরাছারে তাদের ৬০ ভাগ বৈলা দিয়া আসি । একটু গাঁইগুই করে তারা । বলি, ভাইজানতো এইবার পরথম । হাবভাব ভালোমত জানতেন না । তাছাড়া আমরা যেই আরবি জানি সেইটাতো বইয়ের আরবি । চলিত আরবি তো এইবার ভালোমত জানতেন না ভাইজান, তাই ততটা লাভ হয় নাই । সামনের বার ইনশাল্লাহ আরো ভালোমত আনতে পারবেন । কিছুটা বুঝেন তারা ।

বড় ভাই নতুনভাবে আবার গেরামের মসজিদে ইমামতি শুরু করেন । আমার ঝামেলাটা কমে । নিজের কাছে আবার পুরাপুরি লাগতে পারি । বাকীর খাতা লৈয়া বাড়ী বাড়ী ঘুরা আবার শুরু করি । দুইটা মুখোশ লাগাইয়া রাখনের ঝামেলা আর থাকে না । খালেদার শ্বশুর বাড়ীতে যাওয়া আসাও চলে । কিন্তু খালেদার পাত্তা আর অর্জন করতে পারি না । কথাই যদি কৈতে না পারি তাইলে বুঝামু ক্যামনে । ইচ্ছা হয় ওরে নিয়া ডাকতরনির কাছে যাই । কিন্তু সেই উপায় নাই । দইমা যাইতে হয় শেষ পইর্যন্ত । ঐ আশা ছাড়তেই হয় ।

বেশ কয়েক মাস নিরানন্দ হাড়ভাঙা পরিশ্রমে কাইটা যায় । খুরশিদ নাই বৈলা আইজকাইল অগো বাড়িতে তেমন একটা যাওয়া হৈত না । ঐ বাড়ীতে কুনো প্রবাসি লুকের বউও নাই । বাকী নেয়ার পাব্লিক খালি খুরশিদেগো ঘর । ট্যাকা খুরশিদ এর কাছ থাইকাই নিই । বিষ্যুদবারে খুরশিদ আইলে দেয় । একদিন দুপুরে এমনেই যাই ঐ বাড়ীতে । গিয়া দেখি খুরশিদের ছুড বৈনের চুল আঁচড়াইয়া দিতাছে একটা কিশোরি মাইয়া । পনর ষোল বচ্ছর বয়স । শইল্যে মাশাল্লাহ সাস্থ্যবতী । স্বভাবে অনেকটা লাকির মত । অল্প কথাবার্তাতেই আড্ডা জইমা যায় । কার কি লাগে জানি না । আমারে মামা বৈলা ডাকে । কিন্তু কথাবার্তায় অনেক আন্তরিক । হাইসা গায়ে পড়ে । আমার সাহস একটু বাড়ে । স্বভাবে লাকির মত হৈলেও গেরামের মাইয়া । লাকির মত অতডা ডর আমার মইধ্যে তৈরি করেনা । খুরশিদের ছুড বৈনডা কি কামে জানি বাইরে গেলে নানান কথায় দুধে হাত দিয়া দিই আমি সরাসরি । হাসতে হাসতে কয় যান মামা কি করেন । খুরশিদের মা কানে কম শুননে ভালই হৈল । হাসিতে বুঝি আমি, সমস্যা নাই । তয় হুতাহুতি কৈরা প্যাঁচ লাগাইতে চাই না । জিজ্ঞাস করি কয়দিনের লাইগা আইছে । মাসখানেক থাকব । খুশি মনে বাড়ীতে এস্তেন্জার দিকে চৈলা যাই আমি ।

পরদিন দুপুরে দেখি রোকসানা আমাগো ঘরে । খোদেজারে খুজতে আইছে । দুপুরবেলা খোদেজা মরার মত ঘুমায় । মাঝে মাঝে বকা বাদ্যি করতাম খোদেজারে । দুপুরে মরার মত ঘুমায় বিকাল পইর্যন্ত, আবার রাইতে ৮ টা ৯ টা না বাজতেই ঢুলা শুরু করে । এত ঘুম মাইয়াডার । এই ঘুমের লাইগাই পরপর দুইবার এইট থাইকা নাইনে উঠতে পারল না । এখন বন্ধই কৈরা দিছে ইশকুলে যাওন । এখন মনে হয় আল্লাহপাক যা করেন ভালোর লাইগাই করেন । আমাগো চোখে যে কামডা খারাপ মনে হয়, যেটা দেইখা আমরা চেইতা যাই তার মইধ্যেও আল্লাহপাক কুনো না কুনো ভালো জিনিস লুকাইয়া রাখেন । সবসময় সেইডা দেখা যায় না । যখন ঘটে তখন দেখা যায় ।

রোখসানা কথা কৈতেছিল আমার ছুড একটা ভাইর লগে । খোদেজার ছুড দুইডা বৈন আমার । দুইডাই ইশকুলে । এক্কেবারে ছুডডা এখনো ভালোমত হাঁটতে পারে না । ঘুমাইতাছে মা আর খোদেজার লগে । আমার ছুড ভাই তিনজন । একডা দুই গেরাম পরের আবদুল্লাহপুর হেফজখানায় বোর্ডিং এ থাকে । বাড়ীতে থাইকা হেফজ হয় না । একডারে দোকানে বসাইয়া আমি বাকী কালেকশনে বাইর হয় । যেইডা বাকি আছিল হেইডার লগে রোকসানা গপসপ করতাছে । তিনগুডি খেলতাছে । ওরে ধমক মাইরা আমি দোকানে পাঠাইয়া দেই । ফারুকে একা পারব না তুইও যা ।

রোকসানা কয় যাইগা তাইলে । ছুড ভাইডা দৌড় মারতাছে দেইখা আমি কই , তোর আম্মা আয়ে নাই রে রোকসানা ? না , বাইত্যে অনেক কাম আম্মার । তুই সাহাইয্য করছ না ক্যান ? করিতো, বেড়াইতে আইছি অনেকদিন পর । সামনের ঘরে, এইডারেই আমরা বৈঠকখানা কই, আমি আর রোকসানা । দুই তিনখান চক্করবক্কর কথার পরে রোকসানারে আন্জা কৈরা ধরি । দুধে হাত দিই । ঐদিনের মত, যান মামা কি করেন কয় না । মুখের মইধ্যে গরম নিঃশ্বাস লাগে রোখসানার । চোখ বন্ধ মাইয়ার । বৈঠকখানার লগে একটা লাগোয়া টয়লেটের কাম শুরু করছিলাম । ট্যাকার কারণে আগাইতাছে না আর । ঘর করা হৈছে । আর কিছু নাই । ইট সিমেন্ট কাঠ পইড়া আছে খালি । আন্জা কৈরা ধইরা আমি রোকসানারে নিয়া ঐ ঘরে ঢুকি । ডলাডলিতেই পইড়া যায় আমার । কিছুক্ষণ হাত থামাইয়া রাখনে রোকসামার নিঃশ্বাস স্বাভাবিক হয় । ঢুলুঢুলু চোখ খুইলা রোকসানা চৈলা যায় । মুখ লাল হৈয়া আছে । হাসিটাসি নাই দেইখা মনে শান্তি লাগে আমার । কচি মাইয়া, এতকিছু বুঝে না । এতটুকুতেই তৃপ্ত । নবী করিম অল্প বয়সের মাইয়া বিয়া করনের লাইগা কৈছেন কিজন্য বুঝি আমি । মনে আমারও একটা ফুর্তি ভাব আসে । লুঙিডারে খুইলা ভিজা যায়গাডা ঘুরাইয়া ঠিক কৈরা পরি । আসরের সময় হৈতে চলল প্রায় । মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকি ।

এখন পইর্যন্ত পুরা বালেগকাল কাটল আমার হাত মাইরা । স্বাভাবিকভাবে জীবনে মাত্র দুইবার । দুইবারের সাথেই জড়ানো লইজ্জা, অক্ষমতা , উপহাসের তিতা ইতিহাস । প্রতিদিন দুপুরের জন্য একটা নতুন রুটিন হৈয়া যায় আমার । আগেও মোটামুটি একটা ছিল । তয় কখনো ইচ্ছা না করলে বাইর হৈতাম না বাকীর খাতা নিয়া । এখন প্রতিদিন দুপুর একটু পইড়া আইলেই ছুড ভাইদুইডারে দোকানে বসাইয়া বাকীর খাতা হাতে লৈয়া গেরামের অন্য একটা রাস্তা দিয়া, কারো বাড়ীতে না গিয়া নিজের বাড়ীতে চৈলা আসি । রোকসানাও যেন নেশায় পাওয়া । প্রতিদিন একই সময়ে চৈলা যাইতাছে এমন একটা ভাব নিয়া বৈঠকঘরের দরজায় দাঁড়ানো । দুইএকটা রুটিন কথাবার্তার পরে আবার আগের জায়গায় । আবার আধা-কমপিলিট টয়লেটে । আস্তে আস্তে রোকসানা একটু সক্রিয় হয় । নিজ হাতে দড়ি খুইলা দেয় । কিন্তু আমার সাহসে কুলায় না । রোকসানা খালেদা না । আবিয়াত্যা । ডলাডলিতেই খুশি আমি । রোকসানাও কুনোদিন বেঁকা হাসি দেয় নাই ।

চলতাছিল এইভাবে ভালোই । প্রতিদিন দুপুরে রোকসানার বাইর হৈয়া যাওনের সময়ের ঢুলুঢুলু ভাব, লাল হৈয়া যাওয়া চেহারা দেইখা ভালো লাগে আমার । নিজের মর্দামির উপর একটা ভরসা আস্তে আস্তে ফিরা আসতে থাকে । যদিও প্রতিটা আসরই পড়া হৈতাছে ফরজ গোসল মাথার উপরে নিয়া । তাও পরদিন ফজরে ভোরে উইঠা নামাযের শেষে কোরান পড়ি কিছুক্ষণ । মুসল্লিরা সব চৈলা গেলে আল্লাহর দরবারে মাগফেরাত চাই । চোখের পানি আইজকাল বাইর হয় না তেমন । গুনায় গুনায় দিল শক্ত হৈয়া যাইতাছে মনে নয় । যতটুক বাইর হয় তাই নিয়াই আমি আল্লারে বলি আমার অবস্থা, ভাগ্যের নিপীড়ন বুঝার জৈন্য । আল্লাহপাক অসীম দয়ালু । রাহমানুর রাহিম, গাফুরুর রাহিম । বান্দার মাইনকাচিপার কথা বুঝবেন, এই ভরসা হারাই না । হারাইলে আমার বাইচা থাকা সম্ভব না ।

বিশ বাইশ দিন পরে একদিন দুপুরে রোকসানার কথা শুইনা আমার কইলজার পানি শুকাইয়া যায় ।

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৫

সেদিন দুপুরে রোকসানা যা বলে তা শুইনা মনে হৈল আমার কামোৎসাহে কেডা জানি এক কলসি ঠান্ডা পানি ঢাইলা দিল । ওর নাকি রক্ত যাওনের ডেট আরো দুইদিন আগে পার হৈয়া গেছে । এখনো কুনো খবর নাই । মাঝে মইধ্যে একদিন দুইদিন এদিক সেদিক হয় বৈলা গত দুইদিন কিছু কয় নাই । তয় আইজকা না হওয়া মাইনে ঝামেলা মনে হয় কিছু একটা হৈয়াই গেছে । আমি কই ঝামেলা হৈব কেন । আমি তো কুনোদিন ঢুকাই নাই । তুই আর কারো লগে কিছু করস নাইতো । নিজেই জানি এইটা একটা ফাউল কথা । কিন্তু মাথার ভিতরডা ফাঁকা । চিন্তা করতে পারতাছি না । মনে হৈল তাই কৈয়া দিলাম । ঝরঝর কৈরা কাঁইদা দেয় মেয়ে । আমি ওর কাঁধে হাত রাখি । বলি, দাড়া দেখি কি করন যায় । করার নাই কুনো বালও । জীবনে এই ঝামেলায় পড়ি নাই কুনোদিন । মাথার মইধ্যে আমি জানিনা, আমি কিচ্ছু জানিনা , আমার কুনো দোষ নাই এই জাতীয় হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে দোকানে চৈলা যাই আমি ।

ছুডকালে মনে করতাম বিয়া করলেই পুলাপান হয় । ক্যামনে কি জানতাম না । তারপরে মনে করতাম একলগে রাইতে শুইলে মনে হয় পুলাপান হয় । আব্বা আম্মারে দেখতাম রাইতে একলগে শোয় । যাগোই বিয়া হয় তাগোরেই দেখতাম রাইতে একলগে শোয় । বাল গজানির পর খুরশিদ এর কাছ থাইকা শিখলাম ক্যামনে কি করলে কি হয় । খুরশিদ শিখছে ওর এক খালাত ভাইর কাছ থাইকা । হারামজাদা কি আমারে ভুল শিখাইলো । না তাতো হওনের কথা না । এরপরে আরো অনেকের কাছ থাইকাই শুনছি জিনিস ভিতরে না গেলে কুনো সমস্যা নাই । পুলাপান হওনের কুনো সম্ভাবনা নাই । তাইলে সমস্যাডা কুন জায়গায় । রোকসানারে আইজ এতদিন ধৈরা চিনি । হাসিখুশি হৈলেও , সেইডা সবার সাথে না । খালেদার মত মাইয়া দুইদিনেই বুঝন যায় । রোকসানা ঐরকম না । আর কারো লগে কিছু করনের কুনো সম্ভাবনা নাই । তাইলে ক্যামনে এই গজব , ক্যামনে ?

ঐদিন আর আছরে মসজিদে যাই না । রেলরাস্তা ধৈরা হাইটা গেরামের বাইরে চৈলা যাই । ছুড একটা খালের মত আছে । ঐটার পাশে বসি । জীবনে শিখলাম খালি আরবি উর্দু । কামের কিছু হৈল না । ধর্মের জৈন্য কামে লাগল ঠিকাছে কিন্তু জীবনে চলার জ্ঞানতো হৈল না । পরামর্শ চাইতে যাওনের মানুষও নাই । খুরশিদরে জিগান যাইব না । ওগো বাড়িতে বেড়াইতে আইছে রোকসানা । মাঝখান দিয়া খুরশিদের লগে একটা লাঠালাঠি তৈরি হৈব । হাজার রকমের চিন্তা মাথায় । রোকসানারে কৈয়া আইছি দেখি কি করন যায় । রোকসানা একটু ভরসা পাইয়াই গেল মনে হৈল । দুশ্চিন্তাতো মাইয়াডারও কম না । উল্টা মাইয়ার উপর দিয়াই যায় বেশি । একবার মনে হয় জাহান্নামে যাউগ্গা । কুনো পরমান নাই । রোকসানার পেট রোকসানা বুঝুক । কিন্তু এত বড় নাফরমানি করতে আবার বাঁধে । এত বড় জুলুম করা ঠিক হৈব না মাইয়াডার উপর । ভালোবাইসাইতো আমার কাছে খোলামেলা হৈছে । নিজের যা আছে বিলাইয়া দিছে । কিছু একটা করতেই হৈব । কি করমু । জানিনা কুনো বালও ।

একবার ঠিক করি, যা থাকে কপালে, হাছাই যদি কিছু হয় গেরামের সবার সামনে স্বীকার কইরা নিমু । বিয়া করমু রোকসানারে । গেরামের কাছে মান সম্মান যাক । আল্লার চোখে তো দয়া পামু । কিন্তু হালার দুইন্যাতে প্যাঁচওতো কম না । আশেপাশের দশ পনের গেরাম জুইড়া আব্বারে সম্মান করে না এমন মানুষ নাই । মোল্লার ধার্মিকতা তার পুলাগো দ্বীনি শিক্ষা সবমিলাইয়া যে সুনাম সেইটার মুখে তো চুনকালি কি, গু মাইখা দেয়া হৈব । শুনতে পাই যৌবনে , বিয়ারও আগে আব্বা জুয়াড়ি মদখোর আছিলেন । মাঝে মাঝে সপ্তাহ পার হৈয়া যাইত নাকি জুয়ার আড্ডায় । বিয়ার পরে একবার তাবলীগে গিয়া সেই যে আব্বা দুনিয়াদারি ছাইড়া ধর্মের কামে লাইগা গেলেন তারপর থাইকা আর কেউ কুনোদিন আব্বারে কুনো বেশরিয়তি বেদ্বীনি কামে দেখে নাই । কারো উপরে জুলুম করতে দেখে নাই । বড় ভাইয়ের বয়সি যারা তারাও কৈলে বিশ্বাস করেনা আব্বা একদিন ঐরকম ছিলেন । সবাই ভুইলা গেছে সেইসব ইতিহাস । পরায় পুরা জীবনডা জুইড়া সে সুনাম আব্বা গইড়া তুললেন তার মুখে গু মাখাই আমি কুন অধিকারে । উপায় একটা খুইজা বাইর করতেই হৈব ।

মাগরেবের সময় দোকানে ফিরা দেখি খালত ভাই আইছে দুইডা । ঢাকা থাইকা একটা আর চৌদ্দগেরাম থাইকা একটা । একটু ভরসা লাগে । দুইডাই ইশকুলে পড়ালেখা করইন্যা । বান্দরও কম না । যদিও ঢাকার খালত ভাইর ছুড ভাইর লগেই আমার খাতির বেশি তাও ওর সাথেও কম না । গোপন কথা কওন যায় । তাছাড়া এখন জড়তা কৈরা পুন্দানি খাওনের সময় না । যেদিকে যা আছে ঘাইটা দেখতে হৈব । খালত ভাইডিরে নিয়া রেলরাস্তায় হাঁটতে বাইর হৈ আন্ধারের মইধ্যে । ওদের খুইলা বলি ঘটনা । পরথম দিন থাইকা শেষ দিন পইর্যন্ত । এক্কেবারে সবকিছু । কেমনে কি কদ্দুর করছি । দড়ি খোলা ছিল নাকি বান্ধা ছিল । কুন যায়গায় পানি লাগছে সবকিছু । ওরা কয় এইডা কুনো সমস্যা না । মাইয়ার বয়স কম । এখন একটু অনিয়মিত হইতেই পারে । এত তাড়াতাড়ি ঘাবড়াইয়া যাওনের কুনো কাম নাই । মনে একটু ভরসা পাই । ভরসা না পাইয়া উপায়ও বা কি । পানিতে ডুইবা যাওনের সময় মানুষ একটা খের পাইলে সেইটারেও জড়াইয়া ধরতে যায় ।

কিন্তু আবার কিন্তু বইলাই লাগায়া দেয় মনের মইধ্যে তোলপাড়, ডরভয়, হতাশা । খারাপ কিছুর জৈন্য রেডি হৈয়া থাকন দরকার আছে । বাই চান্স এর তো কুনো লাইসেন্স নাই । কুনো না কুনোভাবে হয়ত আকাম হৈয়াও যাইতে পারে । তার জৈন্যও উপায় আছে । কাঁচা আনারস লাগবো । কাঁচা আনারস কৈ পামু ? বাজরেতো পাওন যাইব না । কবিরাজের কাছে গেলে থাকতে পারে । কিন্তু গেরামের বা গেরামের আশেপাশের কবিরাজের কাছে কাঁচা আনারসের লাইগা গেলেতো বুইঝা যাইব ঘটনা কি । পুবপাড়ার এক বাড়িতে আনারসের গাছ আছে কয়েকটা । তিনজন মিলা দেইখা আসি । কাঁচাও আছে কয়েকটা । চাইয়াতো নেওন যাইব না । রাইতে চুরি কৈরা নিতে হৈব । রাইতে তিনভাই মিলা চুরি কইরা নিয়া আসি কাঁচা আনারস । একটা লুঙি দিয়া প্যাঁচাইয়া রাইখা দিই দোকানের এক চিপায় । ঐরাইতে তিনজিন দোকানেই ঘুমাই । ক্যামনে কি করন লাগবো যুক্তি করি । এখনই কাইটা ফালাইলে তেজ কইমা যাইতে পারে । ঠিক করি কাইলকা দুপুরে গেরামের বাইরে খেতে গিয়া দুই খালতভাই মিলা আনারাস ছিইল্যা কাইটা আনব । আমি গেলে গেরামের মাইনষের চোখে পড়লে সমস্যা আছে । ওগোরেতো গেরামের সবাই চিনে না । কাটতে আর কতক্ষণ । রাইতে আর আমাগো ঘুম হয় না । তিনভাই মিলে আলাপ করতে করতে পার হৈয়া যায় সময় ।

পরেরদিন দুপুরে খাওনদাওনের পর দোকান বন্ধ কৈরা দিই । ছুডভাই দুইডারে দুই প্যাকেট বিস্কুট আর কয়েকবোতল জুস দিয়া পাঠাইয়া দিই আবদুল্লাহপুর হিফজখানায় । জুহরের কিছুক্ষণ পরই খুরশিদগো বাড়ীতে গিয়া সবার লগে একটু কথাবার্তা কৈয়া আসি । উদ্দেশ্য রোকসানারে জানানো । আইজকা হয়ত নাও যাইতে পারে । রোকসানা ছিল না । খুরশিদ এর ছুড বৈনডারে জিগাই রোকসানা কই ? কয় বাড়ীর পিছনদিকের পুকুরে গোসল করে । ওরে কৈ রোকসানারে কৈতে আমি আইছিলাম । এতটুক শুনলেই বুঝবো রোকসানা । দোকান থাইকা লুঙিতে কৈরা আনারসটা নিয়া খালত ভাইডিরে পাঠাই খেতে আনারস কাইটা আননের লাইগা ।একটা টিফিনবাডি দিয়া দিই লগে । বাড়ীর পিছনদিকের চিপা দিয়া ওরা আনারস কাইটা আনছে এমন সময় দেখি রোকসানা । মুখে হাসি । আমার কেমন জানি বুকের উপর থাইকা একটা পাত্থর নাইমা যাই যাই কৈরাও যায় না । হাসিমুখেই মাথা উপরনিচ কৈরা রোকসানা চৈলা যায় । পাত্থরডা নামে পুরাপুরি । কাটা আনারসডি রেললাইনের পাশে খালে ফালাইয়া দিয়া আসি ।

জীবনে শালার বিপদের পুন্দানির পর পুন্দানি । রৈদ কইমা আসার পর তিনভাই মিলা দোকানে বৈসা আছি । রেললাইন থাইকা নাইমা দোকানের সামনের পুকুর পাড় দিয়া এদিকে হাইটা আসা পুলাডার চেহারা চিনা চিনা লাগে । পুরাপুরি মনে পড়নের পর আমার কৈলজার পানি আবার শুকাইয়া যায় ।